তবে, কাজ এবং প্রচারের পাশাপাশি, ভিতরে ভিতরে একটা চাপা উদ্বেগও রয়েছে যে৷ কারণ, আউসগ্রামের বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজির নাম এখনও ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’, অর্থাৎ, ‘অ্যাডজুডিকেশনে’র লিস্টে৷ কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এর মধ্যেই সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা ঘোষণা করা শুরু হতে পারে৷ কলিতা অবশ্য আস্থা রাখছেন দলের উপরে৷ বলেছেন, “দল নিশ্চয়ই ব্যবস্থা করবে।”
advertisement
২০২১-এর নির্বাচনেও তাঁকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি৷ কিন্তু, জিততে পারেননি৷ তারপরেও অবশ্য কলিতার উপরেই ভরসা রেখেছে তাঁর দল৷ ২০২৬-এ আবারও প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে। আর সেই ভরসাকেই হাতিয়ার করে ‘১০০ শতাংশ জয়ের’ আত্মবিশ্বাসে মাঠে নেমেছেন তিনি।
কলিতা জানান, এখন তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, খোঁজ নিচ্ছেন৷ পাচ্ছেন সমর্থনের আশ্বাসও। এদিকে, সংসারের দায়িত্ব এখন সামলাচ্ছেন শাশুড়ি, স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যেরা৷ আর সেই সুযোগেই পুরো সময় দিচ্ছেন রাজনীতিকে। তাঁর কথায়, “পরিবার পাশে আছে বলেই আজ পার্টিতে সময় দিতে পারছি।”
২০১৪ সালে বুথ কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু। তারপর ধাপে ধাপে সাংগঠনিক দায়িত্ব বেড়েছে, নগর সম্পাদিকা থেকে জেলা কমিটি। অবশেষে প্রার্থী। নিজের এই উত্থানকে তিনি সরাসরি দলের আদর্শ ও নেতৃত্বের উপর আস্থা হিসেবেই দেখছেন। এমনকি, হুমকি ও আক্রমণের মুখে পড়লেও দল ছাড়ার কথা কখনও ভাবেননি বলে জানালেন তিনি।
তবে কলিতার কথায়, এই লড়াই শুধুই রাজনৈতিক নয়, সামাজিকও। একদিকে আর্থিক টানাপোড়েন, অন্যদিকে ভোটের খরচ, সবটাই সামলাচ্ছেন দলীয় কর্মীরা, নিজে শুধুই প্রচারে মন দিচ্ছেন বলে জানালেন কলিতা। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন নতুন মুখ শ্যামাপ্রসন্ন লোহার। কিন্তু লড়াইকে কঠিন বলে মানতে নারাজ কলিতা। তাঁর সোজাসাপ্টা দাবি, “এই লড়াই আমাদের কাছে সহজ, আমি জিতবই।” গরিব পরিবারের মেয়ে থেকে বিধানসভা প্রার্থী, এই যাত্রাপথে আবেগ, সংগ্রাম আর রাজনৈতিক বিশ্বাস একসঙ্গে মিশে গেছে কলিতা মাঝির জীবনে। এখন দেখার, আউসগ্রামের মানুষ তাঁর এই লড়াইকে কতটা আপন করে নেন।





