বনগাঁ পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি আকাইপুর, ছয়ঘরিয়া, ধর্মপুকুরিয়া, গঙ্গাধরপুর, ঘাটবাওর এবং গোপালনগর ১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র। এবারও সেই কেন্দ্র থেকে অশোক কীর্তনিয়ার উপরই আস্থা রেখেছে বিজেপি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী করা হয়েছে বিশ্বজিৎ দাসকে।
প্রার্থী হওয়ার পর অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘‘দল আমার উপর ফের আস্থা রাখায় আমি কৃতজ্ঞ। জিতে বনগাঁ উত্তরের মর্যাদা রক্ষা করব।’’ তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষই জবাব দেবে বলে তাঁর মত। পাল্টা তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাসের দাবি, গত পাঁচ বছরে বিধায়ক হিসেবে কোনও কাজই করেননি অশোক। বনগাঁর মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছে। চারটি কেন্দ্রেই তৃণমূল জয়ী হবে।
advertisement
অন্যদিকে, বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে ফের প্রার্থী করা হয়েছে বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদারকে। প্রার্থী ঘোষণার পরই তিনি দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক এবং মিছিল করেন গোপালনগরের বিভিন্ন এলাকায়। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঋতুপর্ণা আঢ্য। প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই বিজেপি-কে সরানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি, পাশাপাশি স্বপন মজুমদারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণও করেছেন।
উত্তর ২৪ পরগনার বিজেপি প্রার্থীরা
এর জবাবে স্বপন মজুমদার কড়া ভাষায় বলেন, ‘‘ভূতের মুখে রাম নাম শোভা পায় না। ব্যক্তিগত আক্রমণ করার আগে তৃণমূল প্রার্থী যেন নিজের ও তাঁর পরিবারের বিষয়টি দেখেন। আমাকে প্রচারে নামতেই হবে না, বনগাঁ দক্ষিণের মানুষ নিজেরাই বিজেপি-কে ভোট দেবেন।’’
আরও পড়ুন: একসময় ছিল SUCI-এর ‘দুর্গ’! টানা ৩৪ বছর… সেই জয়নগর থেকে এবার কাকে প্রার্থী করল বামফ্রন্ট?
এদিকে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দেবদাস মণ্ডলকে এবার হাবড়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁর প্রতিপক্ষ তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এই কেন্দ্রেও জোরদার লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে। দেবদাস মণ্ডলের দাবি, হাবড়ায় তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত। পাল্টা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, গণনার দিনই প্রমাণ হয়ে যাবে, হাবড়ার মানুষ তৃণমূলের পক্ষেই আছেন।
অশোকনগর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী করা হয়েছে চিকিৎসক সুময় হীরাকে, যিনি মুখোমুখি হবেন তৃণমূলের নারায়ণ গোস্বামীর। অন্যদিকে, বারাসত কেন্দ্রে বিজেপি ফের প্রার্থী করেছে শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়কে, যিনি এর আগেও এই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কিন্তু পরাজিত হন। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই বারাসতের হরিতলা মোড়ে বিজেপির পার্টি অফিসের বাইরে তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়তে দেখা যায়, যা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।
এই প্রসঙ্গে শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তৃণমূল পোস্টার রাজনীতিতে অভ্যস্ত। ভয় পেয়েই তারা এসব করছে। যদিও বারাসত শহর তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস মিত্র দাবি করেন, এটি বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল, এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। সব মিলিয়ে বনগাঁ মহকুমা এবং সংলগ্ন এলাকায় প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। একাধিক কেন্দ্রে হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াইয়ে এবারের নির্বাচন যে যথেষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ হতে চলেছে জেলায় তা বলাই যায়।






