Digha Tourism: দিঘা যাওয়ার পথে কি মিস করছেন এই ৪০০ বছরের পুরনো রাজপ্রাসাদ? গা শিউরে ওঠা ইতিহাস লুকিয়ে কাজলাগড়ে
- Reported by:Madan Maity
- Published by:Ananya Chakraborty
Last Updated:
Digha Tourism: দিঘার কাছে ভগবানপুরে অবস্থিত ৪০০ বছরের পুরনো কাজলাগড় রাজবাড়ি—ইতিহাস, মন্দির ও ধ্বংসাবশেষে ভরা এক অফবিট পর্যটন কেন্দ্র, যা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে
দিঘা তো বহুবার গেছেন। কিন্তু দিঘা যাওয়ার পথে ৪০০ বছরের প্রাচীন এই রাজবাড়ি দেখেছেন কি? যদি না দেখে থাকেন, তাহলে আপনি বড় মিস করেছেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুরের কাজলাগড় রাজবাড়ি আজও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভগ্নপ্রায় এই প্রাসাদের জরাজীর্ণ চেহারা দেখলে গা শিউরে ওঠে। প্রাচীন ঐতিহাসিক এই রাজবাড়ী ধরে ধরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পর্যটকদের কাছে।
advertisement
আঞ্চলিক ইতিহাসবিদ অরিন্দম ভৌমিক তাঁর ‘মেদিনী কথা’ গ্রন্থে বলেছেন, সুজামুঠা রাজপরিবারের নবম রাজা মহেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরীর আমলে অষ্টাদশ শতকে নির্মিত হয় এই বিশাল অট্টালিকা। ইটের তৈরি এই প্রাসাদ একসময় ঐশ্বর্যের প্রতীক ছিল। পাশাপাশি নির্মিত হয়েছিল গৃহদেবতা গোপালজিউর নবরত্ন মন্দির। এছাড়াও শিব ও কালীর মন্দিরও ছিল, যা আরও প্রাচীন বলে মনে করা হয়।
advertisement
এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোবর্ধন প্রথম মা কালী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নাম থেকেই গড়ের নাম হয় কালীরগড়, যা পরে পরিবর্তিত হয়ে কাজলাগড় নামে পরিচিত হয়। একসময় এখানে শিব ও কালীর মন্দির থাকলেও বর্তমানে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয়দের মুখে এখনও সেই অতীতের নানা গল্প শোনা যায়।
advertisement
গোপালজিউর নবরত্ন মন্দির স্থাপত্যের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মন্দিরটির তিনদিকে ত্রিখিলান প্রবেশপথযুক্ত অলিন্দ ছিল। পূর্ব ও পশ্চিম দিকেও ছিল আলাদা প্রবেশপথ। পশ্চিম দিকে দোতলা ও তিনতলায় ওঠার সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিল। দক্ষিণের দেওয়ালে পোড়ামাটির কারুকাজ ও মূর্তির চিহ্ন আজও দেখা যায়। তবে বর্তমানে মন্দিরটি ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়েছে।
advertisement
মন্দিরের পূর্বদিকে ছিল বিশাল রাজবাড়ি, যা এখন ছাদহীন ধ্বংসপ্রাপ্ত অট্টালিকা। দক্ষিণ-পশ্চিমের কক্ষে বসে রাজা প্রজাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। পূর্বদিকে ছিল রানির মহল এবং পেছনে রানির পুকুর। দক্ষিণে ছিল রাসমঞ্চ। পুরো এলাকা পরিখা দিয়ে ঘেরা ছিল। রাজভবন, অতিথিশালা, অশ্বশালা ও অস্ত্রাগারের মত নানা স্থাপনাও এখানে ছিল বলে জানা যায়।
advertisement
১৯৫৫ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর এই সম্পত্তির দায়িত্ব নেয় সরকার। কিছুদিন এখানে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসও চলেছে। বর্তমানে রাজবাড়িটি সম্পূর্ণ ভগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দিঘা-নন্দকুমার ১১৬বি জাতীয় সড়ক থেকে এগরা-বাজকুল সড়কে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রাচীন এই রাজবাড়ি। সঠিক সংরক্ষণের ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে জেলার এই প্রাচীন ইতিহাস।







