এগরা বাবার জন্মভূমি। সেই সূত্রে তিনি এই এলাকারই বাসিন্দা। এখানেই তাঁদের রায়ত সম্পত্তিও রয়েছে। নিজেকে ‘ভূমিপুত্র’ দাবি করে দিব্যেন্দু পুরোনো দিনের কথা মনে করান। বলেন, এই কেন্দ্র থেকেই তাঁর বাবা একসময় বামফ্রন্টের মন্ত্রীকে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে তিনি বলেন, ‘আমি ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছি।’ একই সঙ্গে তার উপর আস্থা রাখার জন্য দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট, বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করা এবং রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
advertisement
দিব্যেন্দুর মতে, এই লড়াই শুধুমাত্র একটি আসনের নয়।এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের লড়াই। তিনি বলেন, ‘ওঁর সঙ্গে লড়াই নয়, লড়াই তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে। ১৫ বছরের তৃণমূলী শাসন থেকে মানুষ নিষ্কৃতি চাইছেন।’
এগরায় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের হেভিওয়েট বিধায়ক তরুণ মাইতি। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন দিব্যেন্দু। একই সঙ্গে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, ‘তৃণমূল আগে নিজেদের বিরোধ মিটিয়ে উঠুক!’ নিজের দলকে সুশৃঙ্খল বলেও দাবি করেন তিনি। জানান, সব ভোটই পদ্ম প্রতীকে পড়বে।
প্রার্থী ঘোষণার পর এগরায় লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছে দিব্যেন্দু অধিকারী। কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন। ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। গোটা পরিবেশে উৎসাহ চোখে পড়ে। প্রচারের শুরুতেই শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ‘অপসংস্কৃতি’ ও ‘নারীবিদ্বেষী’ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক দুর্নীতির প্রসঙ্গও তোলেন। কর্মীদের শপথ নিতে বলেন এই সরকারকে হারানোর জন্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, এখন দেখার তৃণমূলের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে অধিকারী পরিবারের প্রতিনিধি দিব্যেন্দু শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারেন কি না।





