আইএসএফ নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছে, তাদের মূল লক্ষ্য বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস, এই দুই প্রধান শক্তির বিরুদ্ধে বিকল্প রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করা। দলের চেয়ারম্যান পীরজাদা মোহাম্মদ নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গড়া এই জোটের উদ্দেশ্য, সাম্প্রদায়িকতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বৃহত্তর লড়াই গড়ে তোলা। ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট শামসুর আলী মল্লিক আনুষ্ঠানিকভাবে ২৯টি আসনের তালিকাও ঘোষণা করেছেন, যেখানে মালদহ থেকে বীরভূম পর্যন্ত বিস্তৃত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে।
advertisement
তবে সমঝোতার ছবিতে এখনও কিছুটা ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। পাঁশকুড়া পশ্চিম, নন্দীগ্রাম, ভগবানগোলা ও মুরারই এই চারটি আসন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত। বামফ্রন্ট ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করলেও, আইএসএফও সেখানে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়। ফলে এই আসনগুলিতে চূড়ান্ত সমাধান কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী জেলাভিত্তিক আসনগুলি হল—
১) মালদা: মোথাবাড়ি, সুজাপুর ২) মুর্শিদাবাদ: শামশেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ, হরিহরপাড়া ৩) নদীয়া: নাকাশীপাড়া ৪) উত্তর ২৪ পরগনা: অশোকনগর, আমডাঙ্গা, মধ্যমগ্রাম, দেগঙ্গা, হাড়ুয়া, মিনাখা (এসসি), বসিরহাট উত্তর, বাদুড়িয়া ৫) দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বাসন্তী (এসসি), কুলপি, মন্দিরবাজার (এসসি), ক্যানিং পশ্চিম (এসসি), ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম, ভাঙর ৬) হাওড়া: উলুবেড়িয়া পূর্ব, জগৎবল্লভপুর ৭) হুগলি: হরিপাল, খানাকুল ৮) পূর্ব মেদিনীপুর: মহিষাদল ৯) পশ্চিম মেদিনীপুর: সালবনি ১০) পশ্চিম বর্ধমান: বারাবনী ১১) বীরভূম: বোলপুর।
এই ২৯টি আসনে আইএসএফ প্রার্থীরা ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। আইএসএফ-এর দাবি, জোটের বৃহত্তর স্বার্থে তারা একাধিক শক্তিশালী আসন থেকেও সরে এসেছে। ২০২১ সালের তুলনায় এবারে তারা অনেক সীমিত আসনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে জোটের সমন্বয় বজায় থাকে। তাদের মতে, রাজ্যে তৈরি হওয়া “বাইনারি পলিটিক্স”অর্থাৎ বিজেপি বনাম তৃণমূলের লড়াই, এই ধারণা ভাঙতেই এই জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
জোট সূত্রে খবর, ইদের পরপরই পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি বাকি আসনগুলিতে সমঝোতার সম্ভাবনাও খোলা রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জোটের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের সমন্বয় ও ভোট স্থানান্তরের উপর। তবে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট যে আসন্ন নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে।






