একসময় বাংলার নবাবী রাজধানী হিসেবে বিখ্যাত মুর্শিদাবাদের গৌরবময় অতীতকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রতি বছর ‘মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি’র উদ্যোগে আয়োজিত হয় মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ উৎসব। এবারের আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ কাঠগোলার বাগান ও প্রাসাদের রাজকীয় প্রেক্ষাপট। উদ্যোক্তাদের তরফে কাঠগোলা বাগানের রাজকীয় প্রেক্ষাপট এবং দুগ্গার পরিবারের বহু পুরনো প্রাসাদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হল একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
advertisement
মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে এই উৎসব নবাবী আমলের ঐতিহ্য, স্থাপত্য, সংস্কৃতি ,শিল্পকলা এবং খাদ্য রসিকতাকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার কাঠগোলা প্রাসাদ এবং বাগান, যা দুগ্গার পরিবারের ঐতিহাসিক বাসস্থান হিসেবেই পরিচিত, তার মার্বেলের মেঝে, ইতালীয় শৈলীতে নির্মিত স্তম্ভ, বিশাল বাগান, জলাশয় এবং সেখানে অবস্থিত পারিবারিক মন্দির দেখার জন্য প্রত্যেক বছর দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ মুর্শিদাবাদের লালবাগ শহরে আসেন।
আরও পড়ুন: এক বাইকে চারজন, ধাক্কা মেরে টেনে নিয়ে গেল ৪০ হাত দূরে! বেপরোয়া গতির বলি নিরপরাধ মহিলা
এই উৎসবের আয়োজকদের আশা ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও রাজপ্রাসাদ দর্শন, বিভিন্ন রকমের চিত্র প্রদর্শন, নৌকা ভ্রমণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিন ধরে চলা এই উৎসব মুর্শিদাবাদকে পর্যটনের মানচিত্রে আরও আকর্ষণীয় জায়গায় নিয়ে যাবে। এই উৎসবকে আকর্ষণীয় করার জন্য উদ্যোক্তাদের তরফ থেকে স্থানীয় লোকনৃত্য ও লোকগান, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ,আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আতশবাজির প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উৎসব হয়ে উঠেছে আনন্দ এবং ইতিহাসের এক মিলনমেলা।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সন্দীপ নওলখা বলেন, “আমাদের তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে সবথেকে প্রিয় পর্যটনের জায়গা মুর্শিদাবাদ। প্রায় ১৬ বছর আগে এই উৎসব প্রথম শুরু হওয়ার পর মুর্শিদাবাদ জেলার এই এলাকায় যেমন সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তার পাশাপাশি দেশ বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের সংখ্যাও বেড়েছে। প্রত্যেক বছর কাঠগোলার বাগানে প্রায় ১৫-১৬ লক্ষ পর্যটক আসছেন। আমরা এই ইতিহাস প্রচার না করলে ধীরে ধীরে এই ‘হেরিটেজ’, এখানকার বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভব হত না। এই সমস্ত কিছু বাঁচানোর উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের তরফ থেকে প্রত্যেক বছর এই উৎসব করা হয়।”





