১৯৭১ সালে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ। তারপর শুরু হয় চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘ পথচলা। বহু বছর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন এগরা মহকুমা হাসপাতাল-এ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে। প্রতিদিন অসংখ্য শিশুর চিকিৎসা করেছেন তিনি। অভিভাবকদের কাছে ছিলেন ভরসার নাম। দায়িত্ববোধ আর মানবিক আচরণ তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। ২০০৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন। কিন্তু শিশুদের সেবা থেকে দূরে থাকতে পারেননি। এখনও চিকিৎসা করছেন নিয়মিত। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজের কাজেও নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন।
advertisement
বর্তমানে তিনি এগরা পৌরসভা-র স্বাস্থ্য আধিকারিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাঁর আর এক পরিচয় এখন সমান জনপ্রিয়। তিনি শিশুদের কবি। চিকিৎসার ফাঁকেই লিখছেন মজার মজার কবিতা। ছোটদের আনন্দ দেওয়া তাঁর কাছে বিশেষ দায়িত্বের মত। সহজ ভাষা, ছোট ছন্দ, হাসির মধ্যে শিক্ষা। তাঁর কবিতায় থাকে মানবিক মূল্যবোধের কথা। কুসংস্কার দূর করার বার্তাও তুলে ধরেন তিনি। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একাধিক কাব্যগ্রন্থ। ‘বিকেলের রং’, ‘জীবনে জীবন’ ও ‘সমাজ ও সভ্যতার আলোকরেখা’ পাঠকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বয়স বাড়লেও কলম থামেনি এখনও।
ভারতের নানা প্রান্তে ঘুরেছেন তিনি। সেই ভ্রমণের অভিজ্ঞতাই তাঁর লেখার বড় সম্পদ। বিভিন্ন জায়গার শিশুদের জীবন দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সেই গল্পই কবিতার ছন্দে তুলে ধরেছেন। আজও প্রতিদিন লিখছেন নতুন কিছু। চিকিৎসা আর সাহিত্য—দুই পথেই সমানভাবে হাঁটছেন তিনি। আশি বছর বয়সেও তাঁর কর্মস্পৃহা তরুণদের অনুপ্রেরণা দেয়। অবসর তাঁর কাছে শেষ নয়। বরং নতুন শুরু। হাসপাতালের দায়িত্ব শেষ করে এখন শিশুদের আনন্দ দেওয়াই তাঁর প্রধান কাজ। সত্যিই এই প্রবীণ চিকিৎসককে কুর্নিশ জানাতেই হয়। কারণ বয়স তাঁকে থামাতে পারেনি। মানুষের সেবা আর শিশুদের হাসিই আজও তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।





