বাঁশ ফাটিয়ে সূক্ষ্ম ছিলকা তৈরি করা হয়। সেই ছিলকার উপর রঙিন সুতো, কাপড়, পুঁতি, কাগজ ও তামার তার দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয় নানান নকশা। কখনও মেঠো বাউলের একতারা, কখনও দেবদেবীর ক্ষুদ্র মূর্তি, সবই জায়গা করে নিচ্ছে হারের লকেট, কানের দুলে। গ্রামীণ জীবনের ছোঁয়া আর ঐতিহ্যের আবহ মিশে প্রতিটি গয়নাই হয়ে উঠছে এক একটি শিল্পকর্ম।
advertisement
শিল্পী সান্তনা মণ্ডল জানান, সোনার গয়নার তুলনায় এই হালকা ও পরিবেশবান্ধব গয়নার চাহিদা এখন অনেক বেশি। নতুন প্রজন্ম ইউনিক ও হ্যান্ডমেড ডিজাইনের প্রতি আকৃষ্ট। ফলে ঘরে বসেই বহু মহিলা নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে রোজগারের পথ খুঁজে পাচ্ছেন। সংসারের কাজ সামলিয়েও তারা নিয়মিত গয়না তৈরি করছেন। বর্তমানে ফ্যাশন ট্রেন্ডেও পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার বাড়ছে। বাঁশ, পাট, সুতো, কাপড়ের পাড় এসব দিয়েই তৈরি হচ্ছে থিমভিত্তিক গয়না। দুর্গাপুজোর সাবেক প্রতিমা থেকে সাহিত্য-সিনেমা অনুপ্রাণিত নকশা, সবই ফুটে উঠছে হারের প্রশস্ত লকেটে।
আরও পড়ুনঃ মহাশিবরাত্রিতে সাংঘাতিক সর্বনাশ! গঙ্গাসাগরে বীভৎস অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই বাড়ি, একরাতে নিঃস্ব পরিবার
অনেক ক্রেতার মতে, সোনার গয়না যেমন ভারি ও দামি, তেমন নয় এই বাঁশের গয়না। বরং এগুলি হালকা, আকর্ষণীয় ও ফ্যাশনেবল। অগ্রদ্বীপের মল্লিকা সরকার, মাম্পি মণ্ডল ও মিঠু দত্তদের মতো বহু মহিলা জানিয়েছেন, আগে সংসার চলত একমাত্র স্বামীর আয়ে। এখন বাঁশের গয়না তৈরি করে তারা নিজেরাই স্বনির্ভর। মাসে ভাল আয় হচ্ছে, ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচও সামলানো যাচ্ছে। রাজ্য সরকারের সহায়তায় ঋণ পাওয়ায় কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
একসময় লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই বাঁশের জুয়েলারি এখন গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরতার প্রতীক। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি এই হ্যান্ডমেড গয়না শুধু ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়, এটি বহু পরিবারের স্বপ্নপূরণের গল্পও।





