জেলা পরিবহন দফতরের আধিকারিকদের গাড়ি চেকিংয়ের সময় এখন থেকে বডি ক্যামেরা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, ক্যামেরায় রেকর্ড থাকবে পুরো চেকিং প্রক্রিয়া। ফলে একদিকে যেমন কাজের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, তেমনই গাড়ি মালিক বা চালকদের প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর দিতে পারবেন আধিকারিকরা।
advertisement
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে দূরপাল্লা ও লোকাল রুট মিলে প্রায় হাজার খানেক বাস চলাচল করে। এছাড়াও দিঘা, মন্দারমনি-সহ একাধিক পর্যটন কেন্দ্র থাকায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট বড় যাত্রীবাহী গাড়ি ব্যাপক পরিমাণে চলাচল করে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এবার বডি ক্যামেরা-সহ গাড়ি চেকিংয়ে নামল জেলা পরিবহন দফতর। জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে সমস্ত আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বডি ক্যামেরা।
এদিন হলদিয়া ও মেচেদা জাতীয় সড়কে নিমতৌড়ি এলাকায় যাত্রীবাহী বাস থেকে ছোট গাড়ি পর্যন্ত একাধিক যানবাহনে চেকিং চালান আধিকারিকরা। আঞ্চলিক পরিবহন দফতরের আধিকারিক সঞ্জয় হালদার বলেন, জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গের এই জেলাতেই প্রথম পরিবহন আধিকারিকদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ জারি হয়েছে। গাড়ি চেকিংয়ের সময় নানা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এখন ক্যামেরা থাকলে তা অনেকটাই এড়ানো যাবে। আমরা আরও খোলা মনে কাজ করতে পারব।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বিভিন্ন বাসের চালকেরা জানান, চেকিংয়ের সময় তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এখন ক্যামেরা থাকলে দুই পক্ষেরই সুবিধা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এইভাবে নিয়মিত চেকিং হোক। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা। যাত্রীবাহী বাস থেকে শুরু করে চারচাকা ও মালবাহী গাড়ি সবকিছুরই এখন স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে পূর্ব মেদিনীপুরের জাতীয় ও রাজ্য সড়ক জুড়ে।
কিন্তু চেকিংয়ের সময় বহুক্ষেত্রেই দেখা যায়, গাড়িচালক ও পরিবহন দফতরের আধিকারিকদের মধ্যে বচসা বা বিতর্কের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় গাড়ির কাগজপত্র ও নিয়মাবলি ঠিক থাকলেও ফাইন করা হয় এমনটাই অভিযোগ তোলেন গাড়ির চালক থেকে মালিকেরা। এই সমস্ত সমস্যার মূলে স্বচ্ছতা আনতে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বিতর্কের অবসান ঘটাতে নতুন পদক্ষেপ নিল জেলা প্রশাসন।





