ডাউন ১২৮৬৪ ব্যাঙ্গালোর হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস (যশবন্তপুর এক্সপ্রেস)-এ যাত্রাপথেই কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন এক যুবতী। মুহূর্তে চাঞ্চল্য ছড়াল ট্রেনের কামরায়, তবে আতঙ্ককে ছাপিয়ে, উঠে এল সহমর্মিতা আর মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ট্রেনের মধ্যেই ওই মহিলাকে সাহায্য করলেন অন্যান্য সহযাত্রীরা।
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অসম-এর দারাঙ জেলার ডালগাঁও থানার বাসিন্দা বাহারুল ইসলাম তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী কচিরান নিশাকে নিয়ে কর্নাটক থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। কর্নাটকের কফি বাগানে শ্রমিকের কাজ করেন বাহারুল। প্রসবের সম্ভাব্য দিন ঘনিয়ে আসায় গত ৩ মার্চ তাঁরা বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে ট্রেনে ওঠেন। তবে ওড়িশার বালেশ্বর এর কাছে সেই চিন্তা আরও জটিল হয়ে উঠে। বুধবার বিকেলে ট্রেনটি বালেশ্বর স্টেশন ছাড়ার কিছু পরেই কচিরানের প্রসব বেদনা শুরু হয়।
advertisement
আরও পড়ুন: তীব্র গরমের দিন শুরু! ২৪ ঘণ্টায় ঘাম ছোটাবে আবহাওয়া, বৃষ্টি কোন কোন জেলায়? ওয়েদার আপডেট
পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সেই কঠিন মুহূর্তে এগিয়ে আসেন সহযাত্রী কয়েকজন মহিলা। তাঁদের সাহস ও সহযোগিতাতেই ট্রেনের কামরাতেই জন্ম নেয় ফুটফুটে এক কন্যাসন্তান। ট্রেনের মধ্যে প্রসব হওয়াতে খবর দেওয়া হয় ট্রেনের মধ্যে থাকা রেলের কর্মীদের। খবর পেয়ে তৎপর হয় রেল কর্তৃপক্ষ। ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক ও রেল পুলিশের উদ্যোগে ট্রেনটি বেলদা স্টেশনে থামান হয়। স্টেশন কর্তৃপক্ষ, জিআরপি ও রেল পুলিশের সহযোগিতায় সেখান থেকে মা ও সদ্যোজাতকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় বেলদা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ রয়েছেন।
আরও পড়ুন: অরিজিতের পর এবার শ্রেয়া ঘোষাল, গান নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন গায়িকা! হতবাক অনুরাগীরা
শ্রমিক বাহারুল ইসলাম বলেন, “কাজের জন্য দূরে ছিলাম। প্রসবের দিন ঘনিয়ে আসতে বাড়ি ফিরছিলাম স্ত্রীকে নিয়ে। হঠাৎই প্রসব বেদনা ওঠে। সহযাত্রী ও রেল পুলিশের সহযোগিতা না পেলে কী হত জানি না। মা-মেয়ে দুজনেই ভাল আছে।” চলন্ত ট্রেনের বদ্ধ কামরায় এমন এক অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে যে মানবিকতার পরিচয় মিলল, তা নিঃসন্দেহে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের জীবনের সংগ্রামের মাঝেও এই নবজন্ম যেন আশার নতুন আলো হয়ে ধরা দিল। রেল পুলিশ ও রেলের তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।






