কাটোয়ার মাটিতে পা রেখেই তিনি একদিকে যেমন আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিলেন, তেমনই প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে রাখলেন পরিমিত ও কৌশলী অবস্থান। কাটোয়ায় এসে সিপ্পি তিওয়ারি জানান, এখানে আসার আগে তাঁর মনে আশঙ্কা ছিল যে বর্তমান বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি তাঁর প্রচারে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে সেই আশঙ্কা একেবারেই সত্যি হয়নি বলেই দাবি তাঁর। বরং তিনি বলেন, “উনার দিক থেকে আমি কোনও সমস্যার সম্মুখীন হইনি, উনি আমাকে ডিস্টার্ব করেননি।”
advertisement
আরও পড়ুন: প্রকাশিত হল তৃতীয় ভোটার লিস্ট! শুক্রবারের পর শনিবারও তালিকা প্রকাশ, কত জনের নাম বাদ গেল?
এই প্রসঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জিকে সম্মান জানিয়ে সিংহের সঙ্গে তুলনা করেন, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলাদা করে নজর কেড়েছে।অন্যদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর অভিযোগ, কাটোয়ায় এসে তাঁকে হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছে বিজেপির তরফে। যদিও বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ ঘোষ-কে তিনি সরাসরি প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে মানতে চান না বলেই স্পষ্ট করে দেন।রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে সিপ্পি তিওয়ারি জানান, ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে তাঁর কোনও বিরোধ নেই, তবে রাজনৈতিক লড়াইয়ে তিনি এখনও রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জিকেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন। তাঁর কথায়, “রাজনৈতিকভাবে উনিই আমার মেইন প্রতিপক্ষ, আমি উনাকেই আমার লেভেলের মনে করি। আমার লড়াইটা হবে সিংহের সঙ্গে লড়াই। আমি উনার কাছ থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছি।”
আরও পড়ুন: রিষড়ায় আন্ডারপাসের কাজে হাওড়ার একাধিক লাইনে রাতভর বন্ধ থাকবে ট্রেন চলাচল
তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এই বিষয়ে বলেন, “সহযোগিতার তো কোনও প্রশ্ন নেই কিন্তু আমাদের দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। স্বভাবতই যে কেউ যে কোনও দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে সেখানে আমরা কোনরকমই বাধা দিনা।”নিজেকে ‘বহিরাগত’ বলে যে সমালোচনা উঠছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট জবাব দেন সিপ্পি তিওয়ারি। তিনি বলেন, মালদা থেকে কাটোয়ার দূরত্ব খুব বেশি নয় এবং কাজের মাধ্যমেই তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করতে চান। জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর জবাব সংক্ষিপ্ত, “হয় জিতব, না হয় শিখব।” সব মিলিয়ে কাটোয়ার রাজনৈতিক ময়দানে পা রেখেই একদিকে প্রতিপক্ষকে সম্মান, অন্য দিকে, নিজের লড়াইয়ের বার্তা, এই দ্বৈত কৌশল নিয়েই প্রচার শুরু করলেন সিপ্পি তিওয়ারি। এখন দেখার, এই আত্মবিশ্বাস ও বার্তা ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।