টিভির পর্দায় যুদ্ধের ঝলসানি আর কান ফাটান শব্দে কেঁপে উঠছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত যে ভয়াবহ মোড় নিয়েছে, তার আঁচ এসে পড়েছে কুয়েতেও। আর সেখানেই জীবিকার তাগিদে পড়ে রয়েছেন ছেলে সুশোভন মাইতি ভিটেমাটি ছেড়ে সুদূর মরুদেশে বছর চারেক আগে অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে কুয়েতের এক সংস্থায় শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন সুশোভন। প্রথম কয়েক বছর সব ঠিকঠাকই ছিল। মাস গেলে ছেলের পাঠান টাকায় বাড়ির ভোল বদলেছে, কিন্তু শেষ কয়েকদিন ধরে পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে সব হিসেব। গাজা ও লেবাননের সীমানা ছাড়িয়ে যুদ্ধের আগুন এখন গ্রাস করতে চাইছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে। কুয়েত সীমান্তবর্তী এলাকায় বোমাবর্ষণের খবর পেতেই উদ্বেগের পারদ চড়েছে ময়নার এই সাধারণ পরিবারে।
advertisement
সুশোভন মাইতির মা অশ্রুকণা মাইতি বলেন “ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল চারদিন আগে। ও বলল হোটেলের মধ্যে আটকে আছে, বাইরে বেরোনো মানা। কিন্তু টিভির খবরে যখন দেখছি চারদিকে মিসাইল পড়ছে, তখন কি আর মা হয়ে স্থির থাকা যায়! সরকারের কাছে আমার কাতর আবেদন আটকে পড়া আমার ছেলে সহ সমস্ত ভারতীয়কে যেন সুস্থভাবে বাড়ি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। টিভির খবর দেখে নিজেদের স্থির রাখা যাচ্ছে না।
শুধু অশ্রুকণা মাইতি নয় নন, ময়নার ওই এলাকায় আরও কয়েকজনের পরিজন কুয়েত ও কাতার সংলগ্ন এলাকায় কাজ করেন। এলাকা জুড়ে এখন একটাই আলোচনা যুদ্ধ থামবে কবে! আপাতত টিভি ও ফোনের স্ক্রিনে যুদ্ধের পরিস্থিতির ওপর চোখ রাখছে অশ্রুকণা মাইতি। ছেলের একটা মেসেজ বা ভিডিও কলের অপেক্ষায় দিন কাটছে ময়নার এই পরিবারের। যুদ্ধের হুঙ্কার আর বারুদের গন্ধে ভরা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ থেকে কবে শান্তির খবর আসবে, সেই আশাতেই প্রহর গুনছে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার বাসিন্দা।





