পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না থানা এলাকার বাগচ গ্রাম পঞ্চায়েত রাজ্য রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্র। কারণ এখানে যখনই নির্বাচন হয়, এলাকাটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এখানে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই সারা বছর ধরে চলতে থাকে। ফলে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। যার সব থেকে বড় প্রভাব পড়ে শিশু মনে। তাই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ ওই এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করল।
advertisement
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। ভোটের মরশুম মানেই উত্তেজনা, রাজনৈতিক হিংসা। এ যেন সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাকচা গ্রামের মানুষজনের কাছে। কারণ এই এলাকায় নির্বাচন এলেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায়। শাসক বিরোধী ভোটের লড়াইয়ে হিংসার শিকার হয় এলাকার সাধারণ মানুষ। শেষ কয়েক বছরে এই অঞ্চল বহুবার বোমাবাজি, সংঘর্ষ, এমনকি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থেকেছে। এলাকার এমন রক্তাক্ত ইতিহাস এবার বদলে দিতে উদ্যোগ নিল জেলা পুলিশ। ভোটের আগে অশান্ত বাকচাকে শান্ত রাখতেই খেলার মাঠে সম্প্রীতির বার্তা দিতে এগিয়ে এল জেলা পুলিশ।
খেলার শুরুর আগে থেকেই এলাকায় উচ্ছ্বাসের পরিবেশ। মাঠে নামলেন জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে। সঙ্গে ছিলেন একাধিক আধিকারিক। খেলার শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় মহিলাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শাড়ি এবং ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া হয় স্কুল ব্যাগ। শুধু তাই নয়, পুলিশ সুপার নিজেই শিশুদের হাতে খাবার পরিবেশন করেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে বলেন, ‘আমরা সবাই এই সমাজের মানুষ। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন কখনও হিংসার রূপ না নেয়। এই ধরনের সংঘর্ষে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বড় বড় নেতা বা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কুর্সি ছেড়ে চলে যান, কিন্তু ভোগান্তি পোহাতে হয় গ্রামবাসীদেরই। তাই এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ব্যাট-বল দিয়েই মানুষকে একত্র করব। খেলার মাঠের বিকল্প নেই। খেলাধুলা মানুষকে যুক্ত করে, বিভেদ সরিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দেয়। তাই বাকচার মতো এলাকায় শান্তির এই প্রচেষ্টা শুরু করা হয়েছে।”
জেলা পুলিশের এমন অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী। পুলিশের এই ভূমিকায় খুশি রাজনৈতিক মহলও।





