সোমবার আচমকাই ভাগীরথী নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই নদীর গ্রাসে চলে যায় কয়েক বিঘা চাষযোগ্য জমি। ওই জমিগুলিতে চাষিরা শাখ আলু চাষ করেছিলেন। কিন্তু ভাঙনের জেরে ফসল পরিপক্ব হওয়ার আগেই তা জমি থেকে তুলে নিতে হচ্ছে, যার ফলে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
advertisement
এই বিষয়ে চাষি উত্তম মণ্ডল বলেন, “আমরা চাইছি যেন ঠিকভাবে এই বাঁধ মেরামতির কাজ হয়। অনেকটা জমি নদীতে তলিয়ে গেল, চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেল।” উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কিশোরীগঞ্জ এলাকায় নদী বাঁধ ভাঙন রোধের কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পের জন্য ২ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। বাঁশের খাঁচা তৈরি করে ভাঙন প্রতিরোধের কাজও শুরু হয়েছিল। তবে সেই কাজের মান ও অগ্রগতি নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ রয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
কারও অভিযোগ, কাজ ঠিকভাবে হচ্ছে না। আবার অনেকের দাবি, কিছুদিন কাজ চলার পর হঠাৎই তা বন্ধ হয়ে যায়। এই বিষয়ে গ্রামবাসী অর্চনা বৈরাগ্য বলেন, “যে জায়গায় ভাঙন হয়েছে সেইদিকটা এখনও বাঁধা হয়নি। আমাদের জমি তলিয়ে গেল, আমরা এখন খাবো কি? আমরা চাইছি যেন ভালভাবে কাজ হয় যাতে আমরা বসবাস করতে পারি চাষ করতে পারি।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
উল্লেখ্য কিশোরীগঞ্জ এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা ভাগীরথী নদীর ভাঙন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যার সমাধানের জন্য কাজ শুরু হলেও, হঠাৎ করেই আবার একই এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে। ফের জমি হারিয়ে যাওয়ার কারণে ক্ষোভে ফুঁসছেন চাষিরা। চাষিদের দাবি, নদীর মাঝখানে কিছু অংশে চর পড়ে যাওয়ার ফলে নদীর স্রোত গ্রামমুখী হয়ে পড়েছে। এর ফলেই নদীর পাড়ে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে এলাকাবাসী ও চাষিরা চাইছেন, প্রশাসন দ্রুত গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখুক এবং নদী ভাঙন রোধের কাজ যেন পরিকল্পনামাফিক ও স্থায়ীভাবে সম্পন্ন হয়।





