বর্ধমান শহরের পারাপুকুর এলাকার বাসিন্দা সঞ্চিতা সেন। মা,বাবা,ভাইকে নিয়ে ছোট্ট পরিবার তার। মা মিঠু সেন গৃহবধূ এবং বাবা প্রসেনজিৎ সেন কলকাতা থেকে জিনিসপত্র এনে সরবরাহ করেন দোকানে দোকানে। ভাই সদ্য কলেজ পাশ করেছে। আর্থিক অনটনের মধ্যে দিয়ে ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠা তার।
advertisement
জন্মগতভাবে বাক ও শ্রবণশক্তিহীন হলেও, কোন বাধাই আটকে রাখতে পারেনি তাঁকে। আজ সঞ্চিতা একটি বহুজাতিক সংস্থার শপিং মলে প্রতিদিনই নানা চ্যালেঞ্জকে উপেক্ষা করে নিজের ছন্দে, সহকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে চলেছে। মুখে কথা না বলেও যেন সবাক সে। ইশারা আর অমলিন হাসিতেই তিনি জয় করে নিয়েছেন সহকর্মী ও ক্রেতাদের মন। সমাজের ভ্রুকুটি আর শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে তুচ্ছ করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে হাল ধরেছে পরিবারের।
আরও পড়ুন: ইরানে লিটার প্রতি ‘পেট্রোলের’ দাম কত জানেন…? চমকাবেন ‘রেট’ শুনলেই, গ্যারান্টি!
সঞ্চিতার জীবনসংগ্রাম শুরু হয়েছিল জন্মের ঠিক দুদিন পর থেকেই। মারাত্মক জন্ডিস এবং পরবর্তীতে স্নায়ুর সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ায় স্বাভাবিক শিশুদের মতো বৃদ্ধি হয়নি তাঁর। ছয় মাস বয়সেও সে এক মাসের বাচ্চাদের মতোই থাকত। বসতে পারলেও ঠিক করে হাঁটাচলা করতে পারত না সঞ্চিতা। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে সেই বাধা কাটলেও বড় ধাক্কাটি আসে এক পুজোর সময়।
হঠাৎ তার মা-বাবা লক্ষ্য করেন বাজির আওয়াজ শুনে অন্যান্য বাচ্চারা ভয় পেলেও সঞ্চিতা কোনও প্রতিক্রিয়া করছে না, এমনকি মা ছাড়া কোনও কথাই বলে না সে। চিকিৎসকের কাছে গেলে তারা জানতে পারেন সঞ্চিতা কানে শুনতে ও কথা বলতে পারে না।এরপরই তাকে ভর্তি করা হয় ড: শৈলেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় মূক ও বধির বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে সে। এরপর ওপেন ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হলেও, পায় এক বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ। আর সেই বিশেষ প্রশিক্ষণই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
তবে শুধু সঞ্চিতই নয় শারীরিক বাধাকে উপেক্ষা করে এই বহুজাতিক সংস্থার শপিংমলে তাঁর মতোই সকলের সঙ্গে পাল্লা কাজ করে চলেছেন কৌশিক রানা। জানা যায়, ওই বহুজাতিক সংস্থার প্রতিটি শপিংমলেই দুজন করে বিশেষভাবে সক্ষমকে দেওয়া হয় কাজের সুযোগ।
সায়নী সরকার





