বছরের নির্দিষ্ট দিনে শুরু হওয়া এই হরিমেলায় পূণ্যভূমি কানায় কানায় ভরে ওঠে ভক্তদের উপস্থিতিতে। কালিন্দী নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মন্দির একদিকে যেমন সুন্দরবনের অরণ্যঘেরা প্রকৃতি, তেমনই অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিকটবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান মেলাটিকে আলাদা মাত্রা দেয়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের সাহেবখালীর চাড়ালখালিতে প্রতিবছর মাঘী পূর্ণিমায় এই হরিমেলায় লক্ষাধিক ভক্ত সমাগম ঘটে।
advertisement
হরি মন্দিরে পুজো দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই মেলা দীর্ঘদিন ধরেই ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও রাজ্যের নানা জেলা থেকে মানুষজন এই মেলায় এসে মিলিত হন। ফলে এটি এক বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্রে রূপ নেয়। এই হরিমেলাকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথা। কথিত আছে, প্রায় ২০০ বছর আগে, ১৮৩২ সালে অবিভক্ত বাংলার নকিপুরের জমিদার হরিনারায়ণ চৌধুরি কালিন্দী নদীর চরে ঘন জঙ্গল ও বাদাবন পরিষ্কার করে বসতি স্থাপন করেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সেই সময়ে কৈলাশ মৃধার বাড়ির সামনে ধানের গোলার পাশে এক বিশেষ দিনে শ্রী হরির আবির্ভাব ঘটে এবং সেখানে অলৌকিকভাবে উজ্জ্বল আলো দেখা যায়। এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে কালিন্দী নদীর তীরে হরিমেলার সূচনা হয় বলে বিশ্বাস। এরপর থেকেই প্রতি বছর বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা শ্রী হরির বিগ্রহ নিয়ে এই মেলায় অংশ নেন। কয়েক দিনব্যাপী চলা এই হরিমেলায় সুন্দরবন সহ পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে, যা আজও চাড়ালখালি হরিমেলাকে এক ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতীক করে রেখেছে।





