আরও পড়ুন West Bengal| Theft: বাড়িতে না থাকলেও ঠেকানো যাবে চুরি! অভিনব দাওয়াই বীরভূম পুলিশের
কাশীপুর সাপ্লাই-এর ষ্টেশন (Kashipore Supply station) ম্যানেজার ঋত্বিক দেব এলাকায় ঘুরে গ্রাহকদের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন। কাশীপুর বাজারের ওপর কাপড়ের দোকান অলোক মন্ডল, নওয়াব আলি মোল্লার। অলোকের অভিযোগ, ‘দুই যুবক মিটার পাল্টাতে এসে বলে আমরা মিটারের রিডিং শূন্য করে দেব। আপনার অনেক টাকা বেঁচে যাবে। এজন্য আমাদের চারশো টাকা বকশিস দিতে হবে। না দিলে আমরা মিটার লাগাব না।‘ অলোক দুশো টাকা দেন। আবার নওয়াব আলি মোল্লার কাছে পাঁচশো টাকা দাবি করা হয়। নওয়াবের কথায়, ‘এক যুবক বলেন পাঁচশো টাকা দিলে আপনার নতুন মিটারে এমন ব্যবস্থা করে দেব যাতে কম ইউনিট বিদ্যুৎ পুড়বে। টাকা না দিলে এমন গণ্ডগোল করে দেব, যে প্রচুর টাকা দিতে হবে।‘
advertisement
কাশীপুর ভট্টচার্য্য পাড়ার বাসিন্দা দেবরাজ ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘আমাকে ভুল বুঝিয়ে তিনশো টাকা নিয়ে গেছে। যারা মিটার বদলে দিচ্ছে তাঁরা ঠগ, প্রতারক। ওদের কড়া শাস্তির দাবি করছি।‘ ক্যান্সার আক্রান্ত আনন্দ মোহন ঘোষের থেকেও তিনশো টাকা ভুল বুঝিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আনন্দের স্ত্রী কল্যাণী ঘোষ এদিন বিদ্যুৎ আধিকারিক ঋত্বিক দেবের সামনে বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে একজন ক্যান্সার আক্রান্ত মরণাপন্ন রোগী আছেন। আমি নিজেও বিছানায় শয্যাশায়ী। তারপরেও ছেলেগুলো বলে তিনশো টাকা না দিলে মিটার পাল্টাবো না। মিটার না পাল্টালে এমন রিপোর্ট করবো অফিসে যাতে আপনাদের অসুবিধায় পড়তে হবে।‘
রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন (Power supply board) সংস্থার ভাঙড় গ্রাহক পরিষেবার অধীন ১৯ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই এ ভাবে কয়েক লক্ষ টাকা বেআইনি ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। যদিও এখনও পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন ভাঙড় সাপ্লাই এর (Bhangar Supply station) ষ্টেশন ম্যানেজার দীপক দেবনাথ। ভাঙড়ের ডিভিশনাল ম্যানেজার শান্তনু নায়েক বলেন, ‘দীন দয়াল উপাধ্যায় গ্রাম জ্যোতি যোজনার রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের কর্মীরা এমনটা করেছে বলে অভিযোগ পেয়েছি।সেইমত দফতরের আধিকারিকদের দিয়ে আমরা একটা ফিল্ড এনকোয়ারি করিয়েছি। তাঁর রিপোর্ট পেলেই ওই ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‘
রুদ্র নারায়ন রায়






