এবছর প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও রেকর্ড ফলনে লাভের মুখ দেখছেন ক্যানিং দু নম্বর ব্লকের কৃষকরা (Bitter Gourd Cultivation)। ক্যানিং দুই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মাহমুদা সেখ বলেন, "দু-তিনবার টানা বৃষ্টিতে চাষের বেশ কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তারপরেও যে পরিমাণ ফলন হয়েছে তাতে হাসি ফুটছে চাষীদের মুখে।"
আরও পড়ুন Bengal News| Paschim Midnapore: এক বছরের মধ্যেই দু-দু'বার উচ্ছেদ! মাথায় হাত দোকানিদের!
advertisement
ক্যানিং দুই নম্বর ব্লকের নয় টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ২১৫ বর্গ কিমির মধ্যে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ১৬,৩৫৮ হেক্টর। জমির নিজস্ব মালিকানা, বর্গাদার, পাট্টাদার মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ কেবল কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। ধান, গম, পাটের পাশাপাশি এখানে বিপুল পরিমাণ উচ্ছে ও করলার চাষ হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে ঠিকমত উচ্ছে চাষ করতে পারলে তা থেকে শুধু চাষী নন আমজনতাও লাভবান হন। কারণ উচ্ছের মধ্যে হাজার একটা খাদ্যগুন আছে (Bitter Gourd good for health)। ভিটামিন এ, সি ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে থায়ামিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম থাকে উচ্ছে ও করলার মধ্যে (bitter gourd medicinal value)। ডায়াবেটিস কিম্বা লিভারের সমস্যায় যারা ভুগছেন তাঁদের উচ্ছে খাওয়া ভীষণ স্বাস্থ্য সম্মত। আনুমানিক ৬০০ বছর পূর্বে চীনে উচ্ছের প্রথম অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও বর্তমানে ভারতবর্ষ ছাড়াও ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন্স, ক্যারাবিয়ান দীপপুঞ্জে উচ্ছে করলার চাষ হচ্ছে ব্যাপক হারে।
ক্যানিং দু নম্বর ব্লকের তাম্বুলদহ ও সারেঙ্গাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমিতে এই গরমে উচ্ছের চাষ হচ্ছে (bitter gourd harvest for profit)। সারেঙ্গাবাদের আঠারোবাকি, ঢালি পাড়া, খাগড়া, হাওরামারি, খুচিতলা, দাড়িপোতাতে এ বছর ভাল ফলন হয়েছে বলে জানালেন এলাকার চাষি মইদুল ইসলাম ঢালি। মইদুল নিজে ২২ বিঘা জমিতে শুধু উচ্ছের চাষ করেছেন। যে জমি থেকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ- থেকে ছ কুইন্টাল উচ্ছে বাজারে যাচ্ছে। মইদুল জানালেন, "বিঘা প্রতি পনের থেকে বিষ হাজার টাকা খরচ করে উচ্ছে চাষ করলে, তিন মাসের মধ্যেই চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করা যায় (Vegetable farming with profit)। যদি সবকিছু আপনার অনুকূলে থাকে, অল্প সময়ে দ্বিগুন-তিন গুন লাভের জন্যই চাষীরা সব ছেড়ে উচ্ছে চাষের দিকে ঝুঁকছেন।"
জীবনতলা পাইকারি বাজারের সব্জি ব্যবসায়ী ইদ্রিশ আলি শেখ সপ্তাহে দু তিনদিন কয়েকশো কুইন্টাল উচ্ছে কিনে মালদহে নিয়ে যান বিক্রির জন্য। সেখান থেকে আবার শিলিগুড়ি হয়ে গোটা উত্তরবঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে ক্যানিং এর উচ্ছে। ইদ্রিশ জানালেন, "আমরা পয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ টাকা কেজি দরে মাল কিনে পয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চান্ন টাকা দরে মাল বিক্রি করছি।" এই উচ্ছেই বাজারে আবার সত্তর থেকে আশি টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সাহাজাহান মোল্লা বলেন, "২০১১ সালের পর ক্যানিং দু নম্বর ব্লকে কৃষি বিপ্লব ঘটেছে। মাছ চাষের পাশাপাশি ধান, পাঠ, লঙ্কা, মটরশুঁটির পর এবার বিপুল উচ্ছের চাষ হচ্ছে ক্যানিং এ।"
তাই বলাই যায়, লোকের মুখে তেতো জুগিয়ে হাসি ফুটছে জীবনতলার কৃষকদের।
রুদ্র নারায়ন রায়






