ঠিক তেমনই এক জাগ্রত কালী মন্দির রয়েছে বীরভূমের পাইকর গ্রামে। কয়েকশো বছরে পুরনো ক্ষ্যাপাকালী মন্দির। মুরারই দু’নম্বর ব্লকের পাইকর গ্রামের ক্ষ্যাপাকালির পুজো কোনও মূর্তিপূজা হয় না। সারা বছর মায়ের প্রতিকি মূর্তি হিসেবে যে শিলা খণ্ড রয়েছে তাতে সিঁদুর দিয়ে কালী হিসেবে পুজো করা হয়ে থাকে। আর এখানে পুজো দেওয়ার জন্য দূর দুরান্ত থেকে বহু পর্যটকদের সমাগম ঘটে। কারণ ভক্তদের বিশ্বাস এই মন্দিরে পুজো দিলে অসাধ্য সাধন হয়।
advertisement
গ্রামের এক পুরোহিত জানান বাঙালি শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজোতে মোট চার দিন কোন পাঁঠা বলি হয় না এই কালী মন্দিরে। কালী পুজোয় এখানে বাড়ি ও সর্বজনীন মিলে প্রায় ২০ টির বেশি কালীপুজো হয়ে থাকে। কথিত আছে পাইকরের বাসিন্দা এক বৈদ্য সাধক ক্ষ্যাপা কালির প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করেছিলেন। বৈদ্য সাধকের ছন্নছাড়া জীবন যাপনের জন্য পাগল ক্ষ্যাপা নামে পরিচিত ছিল।
পরবর্তীতে তিনি এই কালী প্রতিষ্ঠা করায় এই কালির নাম দেওয়া হয় ক্ষ্যাপা কালী। বর্তমানে হাজরা বাড়ির সদস্যরা এই ক্ষ্যাপা কালির দেখাশোনা করেন। মন্দিরটি ঘুরে দেখলে দেখা যায়, মন্দিরের কোন ছাউনি নেই খোলা আকাশের নিচে সবুজ প্রকৃতির বুকে বিরাজ করছেন শিলা রুপী মা ক্ষ্যাপা কালী। বিশেষ পুজোর দিন মন্দির চত্বরে বসে বিরাট মেলা।তন্ময় সেন হাজরা জানান দেশজুড়ে এই ক্ষ্যাপা কালী বহু ভক্ত রয়েছে কালী পুজো ছাড়াও শনিবার এবং মঙ্গলবারে বহু ভক্ত পুজো দিতে আসেন।
কর্মসূত্রে যে সমস্ত মানুষজন বাইরে থাকেন তারা পুজোতে বাড়ি আসেন। কালী পুজোর সময় নিশি রাতেও পুজো চলে মন্দির চত্বরে। বাড়ির কোন শুভ কাজ হলে এই মন্দিরে পুজো দিয়ে সেই শুভ কাজ শুরু করেন।এছাড়াও জমির শস্য থেকে শুরু করে গাছের ফল সবটাই মাকে আগে অর্পণ করার পর বাড়িতে তোলেন। তাই এবার যদি আপনি বীরভূম ভ্রমণের জন্য আসেন তাহলে খোলা আকাশের নিচে এই কালীমন্দির দর্শন করে অবশ্যই যেতে পারেন।
সৌভিক রায়





