বীরপাড়া থেকে লঙ্কাপাড়া কিংবা মাকরাপাড়া, অন্যদিকে ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ে ধরে এগিয়ে গেলে জলদাপাড়া, আবার হাসিমারা পেরিয়ে ৩১ সি জাতীয় সড়ক ধরে পূর্ব দিকে দমনপুর পর্যন্ত বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প। দমনপুর থেকে রাজাভাতখাওয়া হয়ে হাসিমারা। আর হাসিমারা থেকে চিলাপাতা হয়ে সোনাপুর। ওই নির্দিষ্ট কয়েকটি রুট তো সারা বছর খোলা থাকে। অথচ পর্যটন সংস্থাগুলির সমীক্ষায় উঠে এসেছে শুধুমাত্র সংরক্ষিত বনাঞ্চল গুলি তিনমাস বন্ধ থাকার কারণে পর্যটকদের অভাবে রীতিমতো শ্মশানে পরিণত হয় এলাকাগুলি।
advertisement
পর্যটন নির্ভর লজ ও রিসর্টগুলির এক অবস্থা দেখা যায়। তবে শুধু ওই পরিচিত রুট গুলিই নয়, মাদারিহাট থেকে টোটোপাড়া কিংবা উত্তর খয়েরবাড়ির অচেনা জঙ্গল পথ আবার টোটোপাড়া যাওয়ার পথে মুজনাই নদীর উৎসস্থলের আকর্ষণও কিন্তু পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। তাই পূর্ব ডুয়ার্সের বন্যপ্রাণ কেন্দ্রীক চিরাচরিত পর্যটনের খোলস ছেড়ে এবার বর্ষা-পর্যটনের উপর জোর দিতে চাইছে পর্যটন সংস্থা গুলি।
‘বর্ষায় পর্যটন’ উৎসবের আয়োজন করেছে ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন। কারণ জঙ্গল বন্ধ থাকলেও বর্ষার টানে জঙ্গলের বাইরের এলাকা গুলিতেও আকছার আনাগোনা করে বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণী থেকে শুরু করে বাহারি পাখির দল। তখন সবুজ বনানীতে তাদের আরও অনেক বেশি আকর্ষণীয় দেখায় বলে দাবি পর্যটন সংস্থাগুলির। তাই বনের আইনকে লঙ্ঘন না করে, বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক আনাগোনায় বাধা তৈরি না করে যদি বর্ষার পর্যটনকে চালু করা যায় তবে একদিকে পর্যটকদের আনাগোনা যেমন বাড়বে, তেমনি অফ সিজনের কোপে পড়ে বন সংলগ্ন বেসরকারি লজ ও রিসর্টগুলির অর্থনৈতিক অবস্থাও ভেঙে পড়বে না।
সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা জানান, ‘পর্যটনের ভরা মরশুমে পূর্ব ডুয়ার্সের আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে বন্যপ্রাণ। কিন্তু তারপরেও যে বর্ষার ডুয়ার্সের এক অসামান্য রূপ আছে, তা সিংহভাগ পর্যটকের কাছেই আজও অনাবিষ্কৃত। আমরা চাইছি প্রজননের মরশুমে বন্যপ্রাণীদের এতটুকু বিরক্ত না করে, আইন মেনে বর্ষার ডুয়ার্সে সৌন্দর্যের ঝাঁপিটা প্রকাশ্যে আনতে।
Annanya Dey





