প্রকৃতির মাঝে ছোট্ট গ্রাম্য পরিবেশে সাজানো এই পার্কে রয়েছে একাধিক বড় জলাশয়, যেখানে পুকুরপাড়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় সাদা রাজহাঁস ও অন্যান্য পাখিদের। পার্কজুড়ে রয়েছে নারকেল, সুপারি, পেঁপে, সবেদা, আঙুর-সহ বিভিন্ন ফলের গাছ ও নানান ফুলের বাগান। তৈরি করা হয়েছে একাধিক সেলফি জোনও।
কর্তৃপক্ষ তরফে জানা গিয়েছে, এখানে ২০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২-১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মূল্যের পিকনিক স্পট ভাড়া পাওয়া যায়। স্পটভেদে সুবিধারও তারতম্য রয়েছে। ৫০-৬০ জন থেকে শুরু করে প্রায় ২০০ জন একসঙ্গে পিকনিক করার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি স্পটে রয়েছে বাথরুম ও জলের সুব্যবস্থা। চাইলে মেনু অনুযায়ী খাবারের আয়োজনও করে দেয় কর্তৃপক্ষ, এবং সেই রান্না অতিথিদের সামনেই করা হয়।
advertisement
পিকনিক না করলেও সাধারণ দর্শনার্থীরা পার্কে প্রবেশ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে মাথাপিছু প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা। একইসঙ্গে ৩০ টাকার বিনিময়ে ২৪টি ফ্রি রাইডে চড়ার সুযোগ মিলছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা।
জলাশয়ে সারাদিন মাছ ধরার সুযোগ রয়েছে ১০০ টাকার বিনিময়ে। ধরা মাছ ওজন করে মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে বাড়িতেও নিয়ে যাওয়া যায়। বোটিংয়ের সুবিধাও রয়েছে, অতিরিক্ত ৩০ টাকা দিয়ে সারাদিন বোটিং করা সম্ভব।
পার্কের কর্ণধার শুভ্রজ্যোতি ঘোষ জানান, ইকো সিস্টেম বজায় রেখে মানুষকে গ্রামীণ পরিবেশে বিনোদনের সুযোগ দিতেই এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতে পর্যটকদের জন্য কটেজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে রাতযাপনের ব্যবস্থাও করা যায়। পিকনিক স্পটগুলির নামকরণেও রয়েছে অভিনবত্ব।
আরও পড়ুন: দিনে গরম রাতে ঠান্ডা, গলা ব্যথা-টনসিল, হাঁচি-কাশি ঘরে ঘরে, দূর হবে ২ মিনিটের ঘরোয়া টোটকায়!
কী ভাবে পৌঁছবেন? কলকাতা থেকে গাড়িতে যশোর রোড ধরে দত্তপুকুর হয়ে বিড়া মোড় থেকে ডানদিকে বিড়া-বদর রোডে কিছুটা এগোলেই রাস্তার ডান পাশে দেখা মিলবে ‘আমার গ্রাম’-এর। ট্রেনে আসলে বিড়া স্টেশনে নেমে অটো বা টোটো করে সহজেই পৌঁছনো যায়।
ইতিমধ্যেই দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন এখানে। কেউ বেড়াতে, কেউ বা পিকনিক করতে। কম খরচে প্রকৃতির মাঝে এক নির্ভেজাল গ্রামীণ অভিজ্ঞতার খোঁজে ‘আমার গ্রাম’ এখন জেলার অন্যতম জনপ্রিয় ঠিকানা।





