আজ থেকে বহু বছর আগে বসন্তে রঙের ছোঁয়া থাকলেও ছিল না উৎসবের আমেজ। দোলের সঙ্গে তখন বিশেষ যোগ ছিল শুধুমাত্র ভগবান কৃষ্ণের। বিভিন্ন রঙের আবির নিয়ে মাতামাতি আনন্দ উৎসব সবকিছুই ছিল কৃষ্ণপ্রেমে একাকার। আলাদা করে বসন্ত উৎসব বলে কিছু ছিল না। প্রথমবার সেটা শুরু করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নাচে গানে আনন্দ উৎসবে এক অন্য ধরনের বসন্ত উৎসবের সূচনা হল। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এমনই এক বসন্তকালই কেনা হয়েছিল শান্তিনিকেতনের জমি।
advertisement
বিভিন্ন পুরনো নথিপত্র ঘাটলে জানা যায় সময়টা ছিল তখন ১৮৬৩ সাল। বোলপুরে বিভিন্ন জায়গায় কিছুটা জমি কেনার কথা ভাবলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। আশ্রম তৈরীর উদ্দেশ্যে এই জমিগুলি কিনতে চেয়েছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই মতো মার্চ মাসের ১ তারিখে লিজে নিয়েছিলেন ২০ একর জমি। সেই সময় বার্ষিক ৫ টাকা হিসাবে রায়পুরের জমিদারদের কাছ থেকে এই জমি তিনি নিয়েছিলেন। সঙ্গে কিনে নিয়েছিলেন দুটি ছাতিম গাছ।
আরও পড়ুন: ‘ভারতে’ আগে ১০টা বাজে নাকি ‘পাকিস্তানে’…? অধিকাংশই জানেন না সঠিক ‘উত্তর’! আপনি?
এরপর ধীরে ধীরে তৈরি হয় গেস্ট হাউস ও আশ্রম। অনেক চিন্তাভাবনার পর তিনি সেই জায়গার নাম দেন শান্তিনিকেতন। কারণ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে এসে শান্তির খোঁজ পেতেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সর্বপ্রথম শান্তিনিকেতনে পা রেখেছিলেন মাত্র ১২ বছর বয়সে। এরপর থেকে যাতায়াত লেগেই থাকত। এর পরবর্তীকালে একটা সময় পর শান্তিনিকেতনে যাবতীয় দায়িত্বভার এসে পড়ে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাঁধে। তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন পাঠভবন এবং বিশ্বভারতীর মতন প্রতিষ্ঠান।
ধীরে ধীরে গোটা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীর নাম। শুধু পড়াশোনায় নয় এর পাশাপাশি জীবন যাপনের ধরন শেখার পদ্ধতি সবকিছুতেই নতুনত্ব নিয়ে এলেন কবিগুরু। কবিগুরুর হাতেই নাচে-গানে বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব আয়োজিত হল। নাম হল ‘বসন্ত উৎসব’।
সৌভিক রায়





