Cow Dung Cake Stove: ৪০ বছর পিছিয়ে উনুনে ফিরছে শহর! গ্যাসের সঙ্কট, শিলিগুড়িতে রাতারাতি জমজমাট ‘ঘুঁটে বাজার’! দেদার বিক্রি
- Reported by:RICKTIK BHATTACHARJEE
- Published by:Pooja Basu
Last Updated:
রান্নার গ্যাসের সঙ্কট শিলিগুড়ির দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। আধুনিক শহরের মানুষও বাধ্য হয়ে আবার ফিরে তাকাচ্ছেন বহু পুরনো রান্নার পদ্ধতির দিকে
শিলিগুড়ি, ঋত্বিক ভট্টাচার্য : রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের জেরে শিলিগুড়িতে যেন ফিরে আসছে পুরনো দিনের চিত্র। শহরের বর্ধমান রোডে রাতারাতি তৈরি হয়ে গেছে এক অদ্ভুত বাজার—ঘুঁটে ও উনুনের বাজার। একসময় যে সামগ্রীকে অনেকেই গুরুত্ব দিতেন না, সেই ঘুঁটেই এখন সাধারণ মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছে। গ্যাস না পাওয়ার যন্ত্রণায় বাধ্য হয়েই মানুষ আবার ফিরে যাচ্ছেন বহু বছর আগের রান্নার পদ্ধতিতে।
advertisement
শহরে রান্নার গ্যাস পাওয়া নিয়ে হাহাকার তৈরি হয়েছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরছেন বাড়ি। এর প্রভাব পড়েছে হোটেল ও রেস্তোরাঁতেও। অনেক জায়গায় মেনুর সংখ্যা কমে গেছে, কোথাও আবার দোকানের ঝাঁপই বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই বর্ধমান রোডে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে ছোট্ট এক বিকল্প বাজার—যেখানে বিক্রি হচ্ছে ঘুঁটে ও মাটির উনুন।
advertisement
কয়েকদিন আগেও এখানে দু-একজন বিক্রেতা বসতেন, তেমন বিক্রি হতো না। কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে সময় লাগেনি। এখন প্রতিদিনই প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন পুরুষ ও মহিলা এখানে ঘুঁটে ও উনুন নিয়ে বসছেন। বিক্রিও বেড়েছে একলাফে। অনেকেই এটাকে এখন ‘মিনি মার্কেট’ বলেই উল্লেখ করছেন। সুযোগ বুঝে বেড়েছে দামও—যে ঘুঁটে একসময় কেউ কিনত না, এখন তা আড়াই টাকা করে বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ ১০ টাকায় চারটি।
advertisement
শুধু ঘুঁটেই নয়, উনুনের দামও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। আগে ছোট উনুনের দাম ছিল প্রায় ৩০০ টাকা, এখন সেটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। বড় উনুনের দাম ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিক্রেতা ববিতা শর্মা জানান, প্রচুর পরিশ্রম করে এই ঘুঁটে তৈরি করতে হচ্ছে এবং অনেক সময় ক্রেতাদের সামনে বানিয়েও দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি কাঁচামালের দাম বাড়ায় বাধ্য হয়েই দাম বাড়াতে হচ্ছে।
advertisement
অন্যদিকে ক্রেতা দীনেশ মল্লিকের কথায় ধরা পড়ছে সাধারণ মানুষের অসহায়তার ছবি। তিনি বলেন, বাড়িতে গ্যাস না থাকায় বাচ্চাকে না খাইয়ে স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে, অনেক সময় বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করে খেতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই প্রায় ৪০ বছর পেছনে ফিরে যেতে হচ্ছে—উনুন আর ঘুঁটে কিনতেই আসতে হয়েছে বর্ধমান রোডে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বারবার আবেদন জানানো হচ্ছে।
advertisement
সব মিলিয়ে রান্নার গ্যাসের সংকট শিলিগুড়ির দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। আধুনিক শহরের মানুষও বাধ্য হয়ে আবার ফিরে তাকাচ্ছেন বহু পুরনো রান্নার পদ্ধতির দিকে। বর্ধমান রোডের এই ঘুঁটে বাজার তাই শুধু একটি অস্থায়ী বাজার নয়, বরং বর্তমান সংকটেরই প্রতিফলন। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলেই আশ্বাস দিয়েছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের উদ্যোগে কত দ্রুত স্বস্তি ফিরে পান সাধারণ মানুষ।








