নালন্দা ওপেন ইউনিভার্সিটির রেজিস্টার হিসাবে কাজ করেন। অভিষেক স্কুল জীবন থেকে স্বপ্ন দেখেছিলেন ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসার। সেই স্বপ্নের ভিত আরও মজবুত হয়েছিল কলেজ জীবনে। পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশনে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তার পঠনপাঠন। এরপর জেইর প্রিপারেশন নেওয়ার চলে যান দিল্লি। তারপর আইআইটি ধানবাদ থেকে জিওলজি-তে এম টেক করেন। তারপর একটি স্টার্ট-আপও করেছিলেন। সে-সব ছেড়ে ২০২৩ সাল থেকে ইউপিএসসির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু। প্রথমবার সফল না হলেও দ্বিতীয়বারে আসে সাফল্য। ইউপিএসসিতে উত্তীর্ণ হয়ে দেশের মধ্যে ১০২ র্যাঙ্ক করেন।
advertisement
অভিষেক চৌহান বলেন, ইউপিএসসির আইডিয়া তার বিদ্যালয় রামকৃষ্ণ মিশন থেকেই। কারণ তাদের বিদ্যালয়ে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিষয়ের উপর চর্চা অনেক বেশি হয়। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন “শিবজ্ঞানে জীব সেবা কর”। সেই কথাই বাস্তব জীবনে পাথেয় করে অভিষেক এগিয়েছেন। নিষ্ঠা, নিয়ম, নীতি সমস্ত কিছুই তার বিদ্যালয় থেকে রপ্ত করা। শুধু পাঠ্য বইয়ের জ্ঞান অর্জন নয়, পাশাপাশি আধ্যাত্মিক জ্ঞানের ও বিকাশ ঘটেছে স্কুল থেকেই। যেগুলি পরবর্তীতে সিভিল সার্ভিসের ক্ষেত্রে বহু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বহু কিছু তার বিদ্যালয় থেকেই শিখেছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘শেষ মুহূর্তে মুখের ওপর DA ছুঁড়ছেন’, ভোট ঘোষণা হতেই স্বমূর্তিতে দিলীপ! মমতাকে বেনজির আক্রমণ
সিভিল সার্ভিসের জন্য তিনি অনলাইনে কোচিং নিয়েছেন। কোনও ইনস্টিটিউটে গিয়ে সেভাবে প্রস্তুতি নেননি। র্যাঙ্ক অনুসারে আইপিএসের চাকরি তিনি পেলেও আগামী দিনে আইএসের জন্য আবারও প্রস্তুতি নিতে চান তিনি। এই চলার পথে তার অনুপ্রেরণা মা, বাবা, মামার পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দ, ফুটবলার মেসি। আগামী দিনে যারা সিভিল সার্ভিস নিয়ে পড়াশোনা করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে অভিষেক বলেন, প্রথমে পরিকল্পনা করতে হবে এবং সেটাকে প্রতিনিয়ত বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করতে হবে। ফলের আশা না করে বারে, বারে চেষ্টা করে যেতে হবে সফল হওয়া পর্যন্ত।
পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশনের ফিজিক্স বিভাগের অধ্যাপক অনুপ কুমার বলেন, পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অভিষেক রামকৃষ্ণ মিশনে পঠন-পাঠন করেছে। ছোটবেলা থেকেই ভীষণ মেধাবী ছিল অভিষেক। এ ছাড়াও খেলাধুলার দিকে প্রতিও আগ্রহ ছিল। সমস্ত দিক থেকেই সে পারদর্শী ছিল। আজ যে-ভাবে দেশের মধ্যে অভিষেক নিজের নাম উজ্জ্বল করেছে, তা নিয়ে তিনি গর্বিত। গর্বিত গোটা রামকৃষ্ণ মিশন। বরাবরই পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্ররা নিজেদের মেধার জন্য এই জেলার নাম উজ্জ্বল করে এসেছে। আর এবার পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তন ছাত্র অভিষেক চৌহানের কৃতিত্ব গোটা দেশের মধ্যে নজির সৃষ্টি করেছে, তাতে গর্বিত গোটা জঙ্গলমহল।






