বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০, ১১ এবং ১৩ এপ্রিল যে পরীক্ষাগুলি নির্ধারিত ছিল, সেগুলি পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে। তবে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত যে পরীক্ষাগুলি হওয়ার কথা ছিল, সেগুলি স্থগিত করে ভোটের ফল ঘোষণার পর নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই এই পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের কলেজে পরীক্ষার আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়েও ভাবনা-চিন্তা করছিলেন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা পিছোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
advertisement
২০১৪ প্রাথমিক টেট মামলায় নয়া রায়! ৬ প্রশ্ন ভুলে সকলকে অতিরিক্ত নম্বর, হাজার হাজার নতুন উত্তীর্ণ
‘আমরা অনুপ্রবেশকারীদের নাম কাটছি বলে পেটে ব্যথা হচ্ছে!’ অসমে একযোগে মমতা-রাহুলকে আক্রমণ অমিত শাহের
গত বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি কলেজের সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তারা। শ্রীরামপুর কলেজ, বিবেকানন্দ কলেজ, সিটি কলেজ-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান জানায়, ১৩ এপ্রিলের পর থেকেই তাদের ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ফলে পরীক্ষার আয়োজন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এদিকে ১০ এপ্রিল থেকে প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকায় কীভাবে তা পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত কোনও বাস্তবসম্মত সমাধান না মেলায় আংশিক পরীক্ষা নিয়ে বাকি অংশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যদিও এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষকমহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, নির্বাচন ও পরবর্তী পরিস্থিতিতে অশান্তি তৈরি হলে পরীক্ষা আরও পিছিয়ে যেতে পারে। এর ফলে শিক্ষাবর্ষের উপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই স্কুল ও কলেজ শিক্ষকেরা নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত। অভিযোগ, এতে পঠনপাঠন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বছর নজিরবিহীনভাবে কলকাতার বহু কলেজ শিক্ষকের উপর প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে শিক্ষকদের তালিকাও চাওয়া হয়েছে, ফলে এপ্রিলের পরীক্ষার দায়িত্ব অনেকেই সামলাতে পারবেন না।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলির নতুন সূচি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।
