চাপাতরা সরস্বতী শিশু মন্দিরে প্রাথমিক শিক্ষালাভের পর বাকি সেন্দ্রা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন অর্পিতা সিংহ তারপর বাঁকুড়া মিশন গার্লস থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ছোট থেকেই মেধাবী অর্পিতার ইউপিএসসির জার্নিটা ছিল চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ।উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ৬ মাস আগে চিরনিদ্রায় যান অর্পিতা সিংহের মা বন্দনা সিংহ। তারপরেও থেমে না থেকে বড় দিদি এবং বাবাকে পাশে নিয়ে এগিয়ে চলে অর্পিতা। স্বনির্ভরতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়াই অর্পিতার মূল মন্ত্র। হার মানতে শেখেনি অর্পিতা ২০২০ এবং ২০২১ সালের ইউ পি এস সির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারাটা যেন আরও তীব্র করে তোলে তার সাফল্যের খিদেকে।
advertisement
আরও পড়ুন: টিউশন পড়িয়ে, বাড়ির কাজ সামলেই... ১৩৩! টেট পরীক্ষায় প্রথম পূর্ব বর্ধমানের ইনা সিংহ
২০২২ সালে ইউপিএসসি জিও সাইন্সে গোটা ভারতবর্ষে ৩৬ র্যাঙ্ক করে গোটা বাঁকুড়াবাসী তথা পশ্চিমবঙ্গ কে গর্বিত করেছে ভূতেশ্বর গ্রামের মেয়ে অর্পিতা সিংহ। শুধু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারিংই নয় যে কোন অফ্ভিট সাবজেক্ট নিয়েও সফলতা পাওয়া যায় এমনটাই বলছেন অর্পিতা সিংহ। নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে স্বাধীনতার সাথে এগিয়ে গিয়েই এসে সফলতা এমনটাই জানিয়েছে অর্পিতা সিংহ। বাঁকুড়া জেলার ভুতেরশ্বর গ্রামে বাড়িতে অর্পিতার পড়ার টেবিলে দেখা গেছে তারই নিজের হাতে আঁকা আইরন ম্যানের একটি স্কেচ। জনপ্রিয় এই কাল্পনিক চরিত্র ঠিক যে ভাবে নিজের বুদ্ধিমত্তার সাথে এবং কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বনির্ভরতায় কোন অতিমাণবীয় শক্তি ছাড়াই যেভাবে সুপার হিরো হিসেবে নিজেকে স্থাপন করেছে তা অনুপ্রাণিত করেছে অর্পিতা সিংহকে।
আরও পড়ুন: হাজার হাজার চাকরি বাতিল! বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশের পরেই 'বড়' পদক্ষেপ এসএসসি-র
গ্রামের মেয়ে অর্পিতা সাফল্যের আকাশ ছুঁয়েও পা এখনও ভূতেশ্বরের মাটিতেই। গ্রাম থেকে এসেও কী ভাবে গোটা ভারতবর্ষকে কাঁপানো যায় তা করে দেখাল অর্পিতা সিংহ। এই সফলতা অনুপ্রাণিত করবে বাঁকুড়ার রাঙ্গামাটি থেকে উঠে আসা গ্রাম বাংলার শত শত ছেলেমেয়েদের তথা গোটা পশ্চিমবঙ্গকে।
নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়





