Home /News /life-style /
Pregnant women during Covid19 third wave : অন্তঃসত্ত্বারা এবং নতুন মা যাঁরা স্তন্যপান করাচ্ছেন, তাঁরা কি টিকা নেবেন? দ্বিধা দূর করলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

Pregnant women during Covid19 third wave : অন্তঃসত্ত্বারা এবং নতুন মা যাঁরা স্তন্যপান করাচ্ছেন, তাঁরা কি টিকা নেবেন? দ্বিধা দূর করলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

বাড়িতে তৈরি খাবার খান, স্বাভাবিক থাকুন, সুস্থ থাকুন

বাড়িতে তৈরি খাবার খান, স্বাভাবিক থাকুন, সুস্থ থাকুন

Pregnant women during Covid19 third wave : অন্তঃসত্ত্বারা কি কোভিড টিকা নিতে পারবেন? নতুন মা যাঁরা স্তন্যপান করাচ্ছেন, তাঁরা কি কোভিড টিকা নেবেন? বহু প্রচলিত দ্বিধা সংশয় দূর করলেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সুজয় দাশগুপ্ত৷ নিউজ18 বাংলা-র হয়ে কথা বললেন অর্পিতা রায়চৌধুরী

আরও পড়ুন...
  • Share this:

    একদিকে থার্ড ওয়েভ, অন্যদিকে মরশুমি পরিবর্তন৷ এই জোড়া ফলার আক্রমণে একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা নিজেকে কী করে শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে সুস্থ রাখবেন?

    শারীরিক দিক থেকে বলব, একজন অন্তঃসত্ত্বার আলাদা করে বিশেষ কিছু করতে হবে না৷ স্বাভাবিক যা যা কোভিডবিধি (Covid Rules) আছে, সে সব তিনি মেনে চলবেন৷ বাড়ির বাইরে গেলে মাস্ক পরবেন৷ বার বার হাত ধোবেন৷ ভিড় এড়িয়ে চলবেন৷ তাঁর বাড়িতে যদি কেউ সংক্রমিত হন, তাহলে আক্রান্ত থেকে দূরে থাকতে হবে৷ অন্তঃসত্ত্বার নিজের যদি কোনও উপসর্গ দেখা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে চিকিৎসককে  (Effect of Covid19 on pregnant ladies)৷

    আর মানসিক দিক থেকে?

    মানসিক দিকটা আরও বেশি গুরুত্বপূ্র্ণ৷ কারণ অনেক সময়েই আমরা এই বিষয়টা উপেক্ষা করি৷ মানসিক দিক থেকে ভাল থাকার জন্য আমি বলব চারদিকের এই নেগেটিভিটি থেকে দূরে থাকতে৷ যাঁর যা ভাল লাগে, সেটাই করুন৷ কোভিড হলেও বলব, নিজেকে পছন্দের কাজের মধ্যে ডুবিয়ে রাখুন৷ গান শুনুন, ছবি আঁকুন, টিভি দেখুন—যা ভাল লাগে, সেটাই করুন৷ চারদিকে কোভিড হচ্ছে, আমার কোভিড হলে কী হবে-এই ভাবনাগুলো যেন সারা ক্ষণ মনের মধ্যে ভিড় করে না থাকে (Covid19 third wave)৷

    নিজেকে যত বেশি কাজে ব্যস্ত রাখা যায়, ততই ভাল৷ কিন্তু কোনও অন্তঃসত্ত্বাকে যদি এই তৃতীয় তরঙ্গের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে যেতে হয়, তাহলে তিনি কী করবেন? বাড়তি কোনও সতর্কতা নেবেন?

    সেভাবে বাড়তি সতর্কতা বলতে কিছু নেই৷ বাড়ির বাইরে গেলে যা যা সতর্কতা নিতে হবে, কর্মক্ষেত্রেও তা-ই করতে হবে৷ মাস্ক পরা, বার বার হাত ধোওয়া, ভিড় থেকে দূরে থাকা, অফিসে কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে তার থেকে দূরে থাকা—এগুলো মানতে হবে৷

    আরও পড়ুন : ‘ক্রনিক রেসপিরেটরি ডিজিজে বছরভর এড়িয়ে চলুন ফ্রিজের ঠান্ডা খাবার এবং ঠান্ডা জলে স্নান’

    এত সব কিছু মেনে চলার পরও যদি কোনও অন্তঃসত্ত্বা কোভিড আক্রান্ত হন, তাহলে কি গর্ভস্থ শিশুর উপর কোনও প্রভাব পড়তে পারে?

    প্রথম প্রথম আমরা বলতাম, আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য নেই৷ কিন্তু এখন তো প্রায় দু’বছর হতে চলল৷ এখন অবধি আমাদের কাছে যা তথ্য ও রেকর্ড আছে, সে সব বলছে যে গর্ভস্থ শিশুকে বিকলাঙ্গ করা বা কোনও জন্মগত ত্রুটি তৈরি করা, সে সব কিছু করে না৷ কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে অন্তঃসত্ত্বা কোভিড আক্রান্ত হলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়ে যেতে পারে৷ বাচ্চার গ্রোথ কম হওয়া বা তার ওজন কম হওয়ার ঝুঁকি থাকে৷ কিন্তু তার মানে এই নয় যে প্রত্যেক কোভিড আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বার এটা হচ্ছে৷

    তাহলে কোভিড আক্রান্ত হয়েও সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে পারেন?

    আমরা এরকম অনেক কেস পেয়েছি যেখানে গর্ভাবস্থার প্রথমে বা মাঝে বা শেষের দিকে হবু মা কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন৷ তাঁদের অনেকেই সম্পূর্ণ সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন৷ আমি বার বার বলছি, কোভিড হলেই যে সন্তান সময়ের আগে প্রসব হবে, বা তা ওজন কম হবে, তা নয়৷ কিছু ক্ষেত্রে সেটা হতে পারে৷ অনেক সময় মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আমরাও নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সন্তান প্রসব করিয়েছি৷ একইসঙ্গে, হবু মায়ের কোভিড হলে যে তাঁর গর্ভস্থ সন্তানও আক্রান্ত হবে, তারও কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি৷

    আরও পড়ুন : ‘ডাবল মাস্ক ছাড়া বাড়ির বাইরে পা রাখবেন না’, পরামর্শ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের

    অর্থাৎ, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কোভিড আক্রান্ত হলে অযথা আতঙ্কিত হয়ে পড়ার কোনও কারণ নেই?

    একদমই তা-ই৷ অযথা প্যানিক করবেন না৷ চিকিৎসকের পরামর্শমতো চলুন৷ সব ঠিক হয়ে যাবে৷

    অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় খাওয়া দাওয়ার উপর তো বাড়তি নজর দেওয়াই হয়৷ কেভিডের সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি পাওয়ার বৃদ্ধির জন্য আলাদা করে কিছু করা প্রয়োজন?

    দেখুন, শরীরের কিন্তু নিজস্ব একটা ইমিউনিটি পাওয়ার থাকেই৷ সেটা বাড়ানোর জন্য দেশে যেন তোলপাড় পড়ে গিয়েছে৷ এটা খাচ্ছেন, ওটা নিচ্ছেন, সাপ্লেমেন্টের ছড়াছড়ি-এত সবের কিন্তু দরকার হয় না৷ প্রেগন্যান্সিতে এমনিতেই শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার কিছুটা পরিবর্তিত হয়৷ তাই বাইরে থেকে ইমিউনিটি বুস্টার নিয়ে কোনও লাভ নেই৷ তবে এইচআইভি পজিটিভ, ডায়াবেটিক বা অন্য কোনও ক্রনিক অসুখ আছে, স্টেরয়েড নিচ্ছেন—এরকম ঘটনা হলে আলাদা৷ এ ছাড়া বাকিরা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া করুন৷ কোভিড পূর্ববর্তী সময়ে যেমন খাওয়াদাওয়া করতেন, সেরকমই করে যান৷ শুধু বলব, বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন৷ কারণ বাইরের খাবার থেকে ফুড পয়জনিং হলে সেক্ষেত্রে গর্ভস্থ শিশু প্রভাবিত হতে পারে৷ তাই বাড়িতে তৈরি খাবার খান, স্বাভাবিক থাকুন, সুস্থ থাকুন৷

    আরও পড়ুন : ‘সাধারণ সর্দিকাশিতেও বাচ্চার সামনে মাস্ক পরে থাকুন’, মত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞর

    প্রেগন্যান্সিতে তো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশিই থাকে৷ প্রতি মাসে চেক আপ থাকে, এছাড়া অন্তত বার তিনেক ইউএসজি থাকে৷ সেক্ষেত্রে কী করবেন হবু মায়েরা?

    দেখুন, সব ঠিক থাকলে আর্লি প্রেগন্যান্সিতে প্রতি মাসে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার দরকার হয় না৷ লেট প্রেগন্যান্সিতে একটু ঘন ঘন চেক আপ থাকে৷ বাড়ি থেকে বেরিয়ে অফিস যাওয়ার সময় যেরকম সতর্কতা নেন, চিকিৎসকের কছে যাওয়ার সময় সেরকমই সাবধানতা অবলম্বন করবেন৷ বাড়তি কিছু নয়৷ বরম মনে রাখবেন ভয় পেয়ে বাড়িতে বসে থেকে ইউএসজি বা অন্যান্য চেক আপ না করালে আখেরে ক্ষতি অনেক বেশি৷

    অন্তঃসত্ত্বারা কি কোভিড টিকা নেবেন?

    অবশ্যই নেবেন৷ বাইরের দেশে প্রথম থেকেই এই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে৷ আমাদের দেশে এ ব্যাপারে প্রথম দিকে একটু দ্বিধা সংশয় ছিল৷ পরবর্তী কালে কিন্তু বলাই হয়েছে হবু মায়েরা এই টিকা নিতেই পারেন৷ কোনও অসুবিধে নেই৷ আপনি প্রথম ডোজ নেওয়ার পর হয়তো কনসিভ করলেন৷ তাতেও নির্দিষ্ট সময়ে দ্বিতীয় ডোজ নেবেন৷ চিন্তার কিছু নেই৷ প্রেগন্যান্সির সঙ্গে কোভিড টিকা না নেওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই৷

    যাঁরা স্তন্যপান করাচ্ছেন, সেই নতুন মায়েরাও কি কোভিড টিকা নেবেন?

    আমরা অনেক সময়েই দেখি তাঁদের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিধা ও সংশয়৷ সব দ্বিধা কাটিয়ে অবশ্যই কোভিড টিকা নিন৷ বরং মনে রাখবেন টিকা না নিয়ে কোভিড হলে কিন্তু আপনার এবং সন্তানের, দু’জনেরই সমস্যা৷

    কোভিড হলে কি স্তন্যপান করানো যাবে?

    এটা খুব গুরুত্বপূ্র্ণ প্রশ্ন৷ প্রথমেই মনে রাখবেন শিশুর জন্য ব্রেস্টফিডিং অপরিহার্য৷ হ্যাঁ, ব্রেস্টফিডিং-এর সময়ে যেহেতু মা ও শিশু খুব কাছাকাছি থাকবেন, সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে ঠিকই৷ কিন্তু তার থেকেও বেশি বিপদ স্তন্যপানের উপকারিতা থেকে শিশু বঞ্চিত হলে৷ তাই ভাল করে হাত ধুয়ে, মাস্ক পরে বাচ্চাকে স্তন্যপান করান৷ ব্রেস্টফিডিং না করালে কিন্তু শিশুর দেহে ইমিউনিটি পাওয়ার তৈরি হবে না৷ শরীরে পুষ্টির অভাব থেকে যাবে৷

    তাহলে সংক্রমিত হলেও মা তাঁর সন্তানকে স্তন্যপান করাবেন তো?

    যদি দেখা যায় মায়ের খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, অথবা মা হয়তো আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন, সেই পরিস্থিতিতে তিনি স্তন্যপান করাতে পারবেন না৷ কিন্তু স্তন্যপান করানোর মতো অবস্থায় থাকলে নিশ্চয়ই করাবেন৷

    যদি নতুন মায়ের সর্দিকাশি হয়, কিন্তু তিনি তখনও জানেন না তাঁর কোভিড হয়েছে কি না, তাহলেও কি স্তন্যপান করানোর সময় তিনি মাস্ক পরবেন?

    পরে নেওয়া ভাল৷ সর্দিকাশি হলে ধরেই নেব নতুন মায়ের কোভিড পজিটিভ৷ যদি তা না-ও হয়, তাহলেও সর্দিকাশির সংক্রমণ থেকেও রক্ষা পাবে নবজাতক৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published:

    Tags: Coronavirus, Coronavirus vaccination, COVID19

    পরবর্তী খবর