• Home
  • »
  • News
  • »
  • life-style
  • »
  • Pulmonologist's Advice: ‘ক্রনিক রেসপিরেটরি ডিজিজে বছরভর এড়িয়ে চলুন ফ্রিজের ঠান্ডা খাবার এবং ঠান্ডা জলে স্নান’

Pulmonologist's Advice: ‘ক্রনিক রেসপিরেটরি ডিজিজে বছরভর এড়িয়ে চলুন ফ্রিজের ঠান্ডা খাবার এবং ঠান্ডা জলে স্নান’

যাঁদের এখনও বাড়াবাড়ি রকমের কিছু হয়নি, তাঁদের বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে

যাঁদের এখনও বাড়াবাড়ি রকমের কিছু হয়নি, তাঁদের বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে

ফুসফুসের নানা অসুখে ইতিমধ্যেই আক্রান্ত যাঁরা, কীভাবে সুস্থ রাখবেন নিজেদের কোভিডের এই সর্বব্যাপী তৃতীয় তরঙ্গে? পরামর্শ দিলেন পালমোনোলজিস্ট অংশুমান মুখোপাধ্যায়৷ নিউজ18 বাংলার হয়ে কথা বললেন অর্পিতা রায়চৌধুরী

  • Share this:

যাঁদের আগে থেকেই ফুসফুসের অসুখ রয়েছে, তাঁরা এই তৃতীয় তরঙ্গে কীভাবে নিজেদের সুস্থ রাখবেন?

প্রথমেই বলব, তাঁরা নিয়মিত যে ওষুধ খান, সেটা হাঁপানির হতে পারে, সিওপিডি-র হতে পারে, সেই ওষুধ খাওয়ার রুটিনে যেন কোনও খামতি না থাকে৷ ওষুধ খাওয়া যেন বাদ না পড়ে৷ দ্বিতীয়ত, মাস্ক, স্যানিটাইজেশন এবং সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মানতে হবে অক্ষরে অক্ষরে৷ তৃতীয়ত এখন সিজন চেঞ্জের সময়৷ এ সময় অ্যালার্জিক ম্যানিফেস্টেশন অনেক বেড়ে যায়৷ তাই অ্যাজমা (Asthma) এবং সিওপিডি-র (COPD) রোগীদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে৷ যাঁদের এখনও বাড়াবাড়ি রকমের কিছু হয়নি, তাঁদের বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে৷

বাড়তি সতর্কতা বলতে?

হঠাৎ গরম পড়ে গিয়েছে বলে গরম জামা খুলে ফেললে চলবে না৷ গলা, কান ঢাকতে হবে ঠিকমতো৷ খুব ভোরে বা সন্ধ্যাবেলা হাঁটতে যাওয়া চলবে না৷ অর্থাৎ সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের পরে হাঁটতে যাবেন না৷ কারণ কলকাতার একিউআই (AQI) বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (Air Quality Index) ভাল নয়৷ তাই দিনের ওই দুই সময়ে দূষণ থেকে সংক্রমণ ঘটতে পারে৷ এখন থেকে অন্তত মার্চ-এপ্রিল অবধি মর্নিংওয়াক ও ইভনিংওয়াক করুন সূর্যালোকে৷ এ ছাড়া বিভিন্ন ক্রনিক রোগের রোগীদের আমরা বলি দু’টি ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য৷

কোন ভ্যাকসিন?

একটা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন, যেটা বছরে এক বার নিতে হয়৷ আর একটা নিউমোনিয়া ভ্যাকসিন, যেটা দু’ ধরনের ভ্যাকসিন হয়৷ সাধারণত ৫ বছর অন্তর নিতে হয়৷ যে চিকিৎসক দেখছেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলে, তাঁর পরামর্শমতো এই দু’টি টিকা নিয়ে নিতে হবে৷ একই সঙ্গে আরও একটা কথা মনে করিয়ে দেব৷

আরও পড়ুন : ‘ডাবল মাস্ক ছাড়া বাড়ির বাইরে পা রাখবেন না’, পরামর্শ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের

কী কথা?

অনেকেই ভাবেন টিকা নিয়েছি মানে, আমার ইনফ্লুয়েঞ্জা বা নিউমোনিয়া হবে না৷ তা কিন্তু নয়৷ ভ্যাকসিন কিন্তু রোগ আটকায় না৷ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়৷ একই কথা প্রযোজ্য কোভিড টিকার ক্ষেত্রেও৷ যাঁরা দু’টো ডোজ নিয়েছেন তাঁরা বুস্টার ডোজ নিন৷ যাঁরা এখনও টিকা নিতে দ্বিধা করছেন, তাঁদের সামনে বড় দৃষ্টান্ত কোভিডের তৃতীয় তরঙ্গ৷ সংক্রমণের হার বেশি হলেও এই ওয়েভে মৃত্যুহার অত্যন্ত কম৷ তাই সব দ্বিধা কাটিয়ে টিকা নিন৷ এগুলি সুস্থতার বেসিক প্রোটোকল৷ ক্রনিক রেসপিরেটরি প্রবলেম (Chronic Respiratory Disease) যাঁদের আছে, তাঁরা এই পরিস্থিতিতে এ নিয়মগুলি মেনে চলুন৷

ডায়েটের দিকে কোন কোন বিষয় খেয়াল রাখব?

যে কোনও রেসপিরেটরি ডিজিজ-এর বেসিক প্রোটোকল হল, ফ্রিজের ঠান্ডা জিনিস খাওয়া চলবে না৷ ফ্রিজের খাবার গরম করে বা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে তার পরই খান৷

এটা কি সারাবছরের জন্যই নিয়ম? নাকি শুধু শীতকালে?

না, সারা বছরই এই নিয়ম মেনে চলুন৷ এছাড়া যাঁদের কোভিড হয়নি, কিন্তু রেসপিরেটরি সমস্যা আছে, তাঁদের আমরা বলি কার্বোহাইড্রেটস তুলনামূলক ভাবে কম খেয়ে প্রোটিনজাতীয় খাবার বেশি করে খান৷ কারণ কার্বোহাইড্রেটের জন্য সামান্য হলেও শরীরের মধ্যে কার্বনডাইঅক্সাইড তৈরির প্রবণতা বেড়ে যায়৷ তার ফলে সিওপিডি রোগীদের অসুবিধে হতে পারে৷

আরও পড়ুন : ‘সাধারণ সর্দিকাশিতেও বাচ্চার সামনে মাস্ক পরে থাকুন’, মত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞর

যাঁদের কোভিড হয়ে গিয়েছে, তাঁদের জন্য কী বলবেন?

তাঁদের জন্য বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে জল রাখতে হবে৷ যদি কোনও কারণে ডায়েটে ফ্লুইড রেস্ট্রিকশন থাকে, তাহলে অন্য কথা৷ নয়তো সারা দিনে অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার ফ্লুইড ডায়েটে থাকতে হবে৷ সেটা জল, ফলের রস, দুধ-যে কোনও কিছু হতে পারে৷ মোট কথা, ডায়েটে আড়াই থেকে তিন লিটার ফ্লুইড থাকতে হবে৷

তাঁদেরও কি ডায়েটে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে হবে?

হ্যাঁ৷ দরকার হলে ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে কথা বলে ডায়েটচার্ট তৈরি করতে হবে৷ বেশি করে প্রোটিন খেতে হবে৷ কারণ কোভিডকে বলা হয় ক্যাটাবলিক ডিজিজ৷ এর ফলে শরীরে ‘মাসল প্রোটিন’ নষ্ট হয়ে যায়৷ কোভিড পরবর্তী সময়ে যে দুর্বলতা, সেটা কাটিয়ে ওঠার জন্য বেশি করে প্রোটিন খাওয়া প্রয়োজন৷

স্নানের ব্যাপারে কিছু নিয়ম আছে?

যাঁরা ক্রনিক রেসপিরেটরি ডিজিজে আক্রান্ত, তাঁদের সারা বছর ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করা প্রয়োজন৷ অনেকেই গরমকালে এই নিয়ম মেনে চলতে পারেন না৷ তাঁরা অন্তত সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অন্তত এপ্রিলের মাঝামাঝি অবধি, ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করা দরকার৷ গরমকালেও কনকনে ঠান্ডা জল এড়িয়ে চলুন স্নানের সময়৷ স্নানের পর ভিজে গায়ে ফ্যানের তলায় বা এসি-তে বসা যাবে না কোনওমতেই৷

আরও পড়ুন : আপনার সন্তান ১৫-১৮ বছর বয়সি? জেনে নিন টিকা নেওয়ার জন্য কী কী করতে হবে

এটা তো সারা বছরের জন্যই প্রযোজ্য?

সারা বছরই এই নিয়ম মনে রাখতে হবে এবং মেনে চলতে হবে৷ ভিজে গায়ে, সেটা স্নান করে হতে পারে, ঘামে ভিজে যাওয়া হতে পারে বা বৃষ্টির জলে ভিজে যাওয়াও হতে পারে-ফ্যানের তলায় বা এসি-তে থাকা যাবে না৷ এই সমস্যা আমরা অল্পবয়সি রোগীদের মধ্যে বেশি দেখতে পাই৷

মানে যাঁরা অফিসে যাচ্ছেন, তাঁদের কথা বলছেন তো?

হ্যাঁ৷ হয়তো ঘামে ভিজে অফিসে ঢুকছেন, যেটা কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত৷ তাঁদের আমরা বলি, বাইরে থেকে এসে সোজা কিউবিকলে না গিয়ে আগে ওয়াশরুমে যান৷ দরকার হলে ঘামে ভেজা শার্ট চেঞ্জ করে তার পর কিউবিকলে ঢুকুন৷ কিন্তু সেটা তো সব সময় সম্ভব নয়৷ যদি সম্ভব হয়, তাহলে নাথিং লাইক দ্যাট৷ মহিলাদের বলব, স্নানের পর যত দ্রুত সম্ভব চুল শুকিয়ে নিন৷ চুলে জল জমে থাকতে দেওয়া যাবে না৷

এখন তো ঘরে ঘরে জ্বর৷ তা, জ্বর এলেই কি পরীক্ষা করব?

এখন যা পরিস্থিতি, প্রথম বা দ্বিতীয় দিনেই পজিটিভিটি চলে আসছে৷ আগে অনেক সময় চতুর্থ দিনে হয়তো পজিটিভিটি আসত৷ তাই আমার মনে হয়, জ্বর এলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করান৷ যদি কোভিড পজিটিভ হন, বাড়ির সকলের থেকে নিজেকে আইসোলেট করুন৷ ভিডিও কনসাল্টেশন করুন চিকিৎসকের সঙ্গে৷

ধরুন, আমার জ্বর এল৷ কিন্তু আমি জানি না কোভিড পজিটিভ কিনা৷ তাহলে জ্বর এলেই কি নিজেকে আইসোলেট করে নেব?

সেটাই করে নেওয়া ভাল৷ কারণ যদি কোভিড পজিটিভ হয়ে থাকে, তাহলে বাড়ির বাচ্চা এবং বয়স্করা সহজেই আপনার থেকে আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন৷ তাই প্রথম থেকেই সতর্কতা নিন৷ যদি আপনি নিশ্চিত জানেন যে নির্দিষ্ট অন্য কোনও কারণে জ্বর এসেছে, সেটা আলাদা কথা৷ নয়তো প্রথম থেকেই সাবধানতা নেওয়া প্রয়োজন৷ তার পর টেস্ট করান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন৷

আমরা যাঁরা সাধারণ মানুষ, তাঁরা অনেক সময়েই বলি, ‘‘আমার না শীতকালে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ধাত আছে৷’’ হয়তো দেখিও কারও কারও খুব সহজেই ঠান্ডা লেগে যাচ্ছে৷ সেক্ষেত্রে সার্বিক সুস্থতার জন্য কী করব?

নিজস্ব অবজার্ভেশন খুব প্রয়োজন৷ অনেকেই আছেন, যাঁরা ‘ঠান্ডা লাগা’ ভেবে বসে আছেন৷ ভেবেও দেখছেন না তাঁরা ক্রনিক রেসপিরেটরি ডিজিজের শিকার কিনা৷ যদি দেখেন দীর্ঘদিন ধরে আপনি সিজন চেঞ্জের সময় সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, তাহলে প্রথমেই একজন পালমোনলজিস্টের কাছে যান৷ আপনার সমস্যা চিহ্নিত করুন৷ তার পর চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন নিন, প্রথমেই যেমন বললাম এবং ওষুধ খান৷

ঠান্ডা লাগলে আমাদের মধ্যে বেশ কিছু ঘরোয়া টোটকা মেনে চলার প্রবণতা আছে৷ সে সব কি করা যাবে?

এই হোমমেড রেমেডি সবই বহু পুরনো এবং পরীক্ষিত৷ তাই অনুসরণ করা যেতেই পারে৷ কিন্তু মনে রাখতে হবে এগুলো সবই সাপোর্টিভ থেরাপি৷ আমি স্পেসিফিক থেরাপি না করে শুধু গরমজলে গার্গল করে গেলাম, তাতে কিন্তু রোগ সারবে না৷ স্পেসিফিক ট্রিটমেন্টের সঙ্গে কেউ যদি সাময়িক আরাম পাওয়ার জন্য ঘরোয়া টোটকা অনুসরণ করতে চান, করতে পারেন৷ তাতে অসুবিধে নেই৷ কিন্তু অসুখ চিহ্নিত করে সঠিক ও মূল চিকিৎসাপদ্ধতি মেনে চলা সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷

Published by:Arpita Roy Chowdhury
First published: