Home /News /life-style /

Covid19 Safeguards: ‘ডাবল মাস্ক ছাড়া বাড়ির বাইরে পা রাখবেন না’, পরামর্শ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের

Covid19 Safeguards: ‘ডাবল মাস্ক ছাড়া বাড়ির বাইরে পা রাখবেন না’, পরামর্শ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের

প্রত্যেককেই ভিটামিন সি, মাল্টিভিটামিন একটু বেশি করে খেতে হবে

প্রত্যেককেই ভিটামিন সি, মাল্টিভিটামিন একটু বেশি করে খেতে হবে

করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ে সাম্প্রতিক অতিমারিকালের সব রেকর্ড চুরমার৷ এ সময় কী করে সুস্থ রাখবেন নিজেকে? সেই পরামর্শই দিলেন চিকিৎসক কুন্তল ভৌমিক৷ তাঁর সঙ্গে কথা বললেন অর্পিতা রায়চৌধুরী

  • Share this:

এখন ঘরে ঘরে হয় ঠান্ডা লেগেছে, নয়তো কোভিড পজিটিভ৷ এই পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকব কী করে?

দেখুন, সম্পূর্ণ আইসোলেশনে (complete isolation) থাকা তো সম্ভব নয় ৷ কাজের জন্য তো বার হতেই হবে৷ যাঁরা বাইরে বার হচ্ছেন, মাস্ক ছাড়া বাড়ির বাইরে পা রাখবেন না (proper use of masks)৷

যে কোনও মাস্কই কি নিরাপদ?

ডাবল মাস্ক পরুন৷ তবে কাপড়ের মাস্ক না পরাই ভাল৷ এন-৯৫ মাস্কের সঙ্গে একটা সার্জিক্যাল মাস্ক পরুন৷ সঙ্গে হাত ধোওয়ার ব্যাপারটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ সেটাও মনে রাখুন৷

সেইসঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় তো?

হ্যাঁ৷ তাছাড়া এই সময় অনেকেই সর্দিকাশির সংক্রমণে ভুগছেন৷ তাঁদের থেকে সুস্থদের দূরত্ব বজায় রাখতে হবে৷ আর বয়স্কদের বাড়িতে থাকাই শ্রেয়৷

বাইরে যত ক্ষণ থাকব মাস্ক পরে থাকতে হবে?

নিশ্চয়ই৷ বাড়ির বাইরে মাস্ক খোলা চলবে না৷ যদি একান্তই খুলতে হয়, তাহলে সকলের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিভৃতে বা একান্তে মাস্ক খুলতে হবে৷

আরও পড়ুন : ‘সাধারণ সর্দিকাশিতেও বাচ্চার সামনে মাস্ক পরে থাকুন’, মত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞর

কিন্তু খাওয়ার সময় কী করব? অফিসে বা যেখানেই কাজ করি না কেন, টিফিন তো খেতে হবে৷

খাওয়ার সময় তো মাস্ক খুলতেই হবে৷ কিন্তু অফিসের ক্যান্টিনে দল বেঁধে একসঙ্গে হৈ হৈ করে খেতে যাওয়ার পুরনো অভ্যাস এখন ছাড়তে হবে৷ টিফিন খান একা একা৷ খাওয়া হয়ে গেলে আবার মাস্ক পরে ফেলুন৷ যাতে সংক্রমণ না হয়৷ কারণ অসুখটা খুবই ছোঁয়াচে৷

ওমিক্রনের জন্য সংক্রমণের হার তো খুব বেড়েওছে?

সে তো বেড়েইছে৷ এখন যাঁরা সর্দিকাশিতে ভুগছেন, পরীক্ষা করলে দেখা যাবে ১০ জনের মধ্যে ৮ জন কোভিড পজিটিভ৷ এছাড়া অনেকেই অ্যাসিম্পটোম্যাটিক বা উপসর্গহীন তো আছেনই৷ এতটাই বেড়েছে সংক্রমণ (covid19 infection)৷

আরও পড়ুন : কাপড়ের মাস্ক পরছেন? কোভিডে সংক্রমিত হতে পারেন ২০ মিনিটে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বুঝব কী করে ইনফ্লুয়েঞ্জা না কোভিড হয়েছে?

শুধু উপসর্গ দেখে বোঝা খুব কঠিন৷ তাই, জ্বর সর্দিকাশি না সারলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়াই শ্রেয়৷ যদি ২-১ দিনের মধ্যে জ্বর সেরে যায় তো ভাল, না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে৷ আর যাঁদের অসুখ ২-১ দিনের মধ্যে সেরে গিয়েছে, তাঁদেরও জ্বরের সময়পর্বটুকু আইসোলেশনে থাকতে হবে৷ যাতে কোনওভাবেই রোগ না ছড়ায়৷

অর্থাৎ এখন জ্বর হলেই বাকিদের থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিতে হবে?

হ্যাঁ৷ সংক্রমণ যাতে না ছড়িয়ে পড়ে, এটা করতেই হবে৷ কারণ জ্বর হওয়ার পর আমরা যত ক্ষণ পরীক্ষা না করছি, তত ক্ষণ বুঝতে পারছি না ওটা ইনফ্লুয়েঞ্জা নাকি করোনাভাইরাস৷

আরও পড়ুন : ওমিক্রন থেকে নীরোগ থাকতে প্রয়োজন ইমিউনিটি, প্রাতরাশে থাকতেই হবে এই খাবারগুলি

খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে?

বাড়িতে তৈরি কম তেলমশলার খাবার খেতে হবে৷ বাইরের খাবার না খাওয়াই ভাল৷ তাজা ফল খেতে হবে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম৷ সঙ্গে থাকবে শাক সব্জি৷ যাঁরা আমিষাশী, তাঁরা আমিষ খাবার খাবেন৷ খেতে পারেন আনসল্টেড নাটস বা নুনহীন বিভিন্ন রকমের বাদামও৷ বেশি করে জলপান করতে হবে৷

অনেকেই শীতে ঠান্ডা লাগার ভয়ে স্নান করেন না৷ সেটা কি ঠিক?

স্নান করতেই হবে রোজ৷ ঈষদুষ্ণ জলে নিয়মিত স্নান করুন৷

ভ্যাকসিনের দু’টো ডোজ নেওয়া হয়ে গিয়েছে বলে অনেকেই কোভিডবিধি পালন করা বন্ধ করে দিয়েছেন৷ তাঁদের কী বলবেন?

ভ্যাকসিন নিলেও যে কোভিড হতে পারে, এটা প্রথম থেকেই বলা হয়েছে৷ এবং সেটা হয়েওছে৷ তবে ভ্যাকসিন নিলে সংক্রমণের তীব্রতা অনেক কম হয়৷ তাই টিকা নিতে হবে যথাসময়ে৷ এবং ভ্যাকসিনের ডাবল ডোজ নেওয়া হয়ে গেলেও কোভিডবিধি পালন করতেই হবে৷ সতর্ক থাকতেই হবে৷

তৃতীয় ঢেউয়ে দেখা যাচ্ছে করোনাভাইরাসের উপসর্গ বেশ মৃদু৷ কিন্তু এটা সংক্রামক অনেক বেশি৷ আমরা কি তাহলে অতিমারি শেষ হওয়ার মুখে এসে পৌঁছেছি?

এই ধারণাটা এখন মুখে মুখে ঘুরছে বটে৷ কিন্তু আমার মনে হয়, এখনই সেভাবে কিছু আগাম বলা যায় না৷ তবে ততীয় ঢেউয়ে ওমিক্রনের দাপটে প্রায় সকলেরই মৃদু করোনা হয়ে গেলে হয়তো হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠবে৷ সেক্ষেত্রে অতিমারি শেষ হলেও হতে পারে৷

আবার নাও হতে পারে?

হ্যাঁ, আবার নাও হতে পারে৷ আবার যে নতুন কোনও স্ট্রেইন আসবে না, সে কথা কেউ বলতে পারে না৷ তাছাড়া এখন যে শুধু ওমিক্রন হচ্ছে, তা নয়৷ সঙ্গে ডেল্টাও আছে৷ তাছাড়া এখন হসপিটালাইজেশন কম৷ তার মানে এই নয় যে আগামী কয়েক দিনেও কমই থাকবে এই হার৷

অর্থাৎ কোভিড-১৯-এর অতিমারি কবে শেষ হবে নিয়ে এখনও কিছু পূর্বাভাস দেওয়া যাবে না?

না, এখনও বলার মতো সেই পরিস্থিতি আসেনি৷ তাই বলা খুব মুশকিল৷

এখনও সতর্কতা অবলম্বনই সেরা উপায়?

একদমই তাই৷ বাড়ি থেকে বাইরে বেরনোর সময় যেমন জামাকাপড় পরতে ভোলেন না, সেরকম মাস্ক পরতেও ভুলবেন না৷

Published by:Arpita Roy Chowdhury
First published:

Tags: Coronavirus, COVID19, Mask

পরবর্তী খবর