Coronavirus: জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র অ্যান্টিভাইরাল পিল এবং দু’টি ভ্যাকসিনে

Last Updated:

ছাড়পত্র পাওয়া ভ্যাকসিন দু’টি হল কোর্বিভ্যাক্স (Corbevax) এবং কোভোভ্যাক্স (Covovax)।

#নয়াদিল্লি: কোভিডের তৃতীয় ঢেউয়ের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে গোটা বিশ্বই। এর পিছনে দায়ী দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া করোনাভাইরাসের ওমিক্রন (Omicron)। কার্যত এই ওমিক্রনের আতঙ্কেই গোটা বিশ্ব এখন থরহরিকম্প। ওমিক্রনের জেরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। ফলে বর্ষশেষ এবং বর্ষবরণের আনন্দেও মেতে উঠতে পারছে না মানুষ। ইতিমধ্যেই উৎসবের তোয়াক্কা না-করে বিধিনিষেধ জারি করেছে বিশ্বের বেশ কিছু দেশ।
ওমিক্রন সংক্রমণের নিরিখে পিছিয়ে নেই আমাদের দেশও। রোজ বাড়ছে সংক্রমণ। বেশ কয়েকটি রাজ্যে শুরু হয়েছে বিধিনিষেধের কড়াকড়ি। চলতি বছরের মে মাসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের দাপট দেখে ত্রস্ত মানুষ। সেই সময় কী ভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, সেই ছবিও মনে করেই এ বার কড়াকড়ি আগে থেকেই বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভারতের ড্রাগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিডিএসসিও (CDSCO) আরও দু’টি ভ্যাকসিন এবং একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধকে ছাড়পত্র দিয়েছে। তবে এগুলি শুধুমাত্র জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে রেস্ট্রিক্টেড ব্যবহারের ক্ষেত্রেই দেওয়া যাবে।
advertisement
advertisement
সূত্রের খবর, ছাড়পত্র পাওয়া ভ্যাকসিন দু’টি হল কোর্বিভ্যাক্স (Corbevax) এবং কোভোভ্যাক্স (Covovax)। আর অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ মোলনুপিরাভিরকেও (Molnupiravir) দেওয়া হয়েছে ছাড়পত্র। তবে এই তিনটি শুধুমাত্র জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে (Emergency) রেস্ট্রিক্টেড ভাবেই ব্যবহার (Restricted use) করা যাবে। আর এর ফলে ভারতে ছাড়পত্র প্রাপ্ত ভ্যাকসিনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮।
advertisement
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য ট্যুইট করে জানিয়েছেন যে, “কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা আর একটি মাইলস্টোন স্থাপন করতে পারলাম। অভিনন্দন ভারতবর্ষ। কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইটা আরও জোরদার করতে সিডিএসসিও, @MoHFW_INDIA এক দিনে জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে রেস্ট্রিক্টেড ব্যবহারের জন্য কোর্বিভ্যাক্স ভ্যাকসিন, কোভোভ্যাক্স ভ্যাকসিন এবং অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ মোলনুপিরাভির -- এই তিনটে ছাড়পত্র দিয়েছে।”
advertisement
যে সব করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন ভারতে ছাড়পত্র পেয়েছে:
আগে ব্যবহারের জন্য মোট ৬টি কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন ছাড়পত্র পেয়েছিল। সেগুলি হল- সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড, ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন, রাশিয়ার স্পুটনিক ভি, জাইডাস ক্যাডিলার জাইকোভ-ডি, আমেরিকার তৈরি মডার্না এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের জ্যানসেন এখনও পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছে ভারতে। এ বার সেই তালিকায় জুড়ে গেল আরও দু’টি ভ্যাকসিনের নাম। ফলে এখন মোট ছাড়পত্র প্রাপ্ত ভ্যাকসিনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮।
advertisement
ভারত ছাড়পত্র দিল কোর্বিভ্যাক্স, কোভোভ্যাক্স ভ্যাকসিন এবং মোলনুপিরাভির কোভিড পিল-কে:
ড্রাগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার থেকে সদ্য ছাড়পত্র প্রাপ্ত এই দুটি ভ্যাকসিন এবং অ্যান্টিভাইরাল পিলের বিষয়ে বিশদে আলোচনা করে নেওয়া যাক।
কোর্বিভ্যাক্স কোভিড ভ্যাকসিন:
বায়োলজিক্যাল ই (Biological E)-এর কোর্বিভ্যাক্স হল দেশে তৈরি প্রথম আরবিডি প্রোটিন সাব-ইউনিট ভ্যাকসিন। এটি টেক্সাসের বেলর কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড টেক্সাস চিল্ড্রেন্স হসপিটাল সেন্টার ফর ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্টের সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে।
advertisement
কোভোভ্যাক্স কোভিড ভ্যাকসিন:
ভারতের কোভোভ্যাক্স ভ্যাকসিন সিরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি। আমেরিকান বায়োটেকনোলজি সংস্থা নোভাভ্যাক্স এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস্ (সিইপিআই)-এর লাইসেন্সের অধীনে তৈরি ভ্যাকসিনের প্রোটিন সাবইউনিট হল কোভোভ্যাক্স ভ্যাকসিন। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য এই ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়েছে। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই নিয়ে মোট ন’টি ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়েছে।
advertisement
মোলনুপিরাভির কোভিড পিল:
মোলনুপিরাভির হল কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে পাওয়া প্রথম ওষুধ, যা এক জন রোগী মুখ দিয়ে খেতে পারেন। এই ওষুধ করোনায় সংক্রমিত রোগীর মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি অর্ধেক কমিয়ে দেয় বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ৭৭৫ জনের উপরে চালানো হয়েছিল ট্রায়াল। যে সব রোগী কোভিডের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে ওষুধ সেবন করেছিল, সেই সব রোগীর হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর হার প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল। ৭৭৫ জনের মধ্যে মাত্র ৭.৩ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। তবে কারওর মৃত্যু হয়নি। আর বাকি যাঁদের শুধুমাত্র প্ল্যাসিবো দেওয়া হয়, তাদের মধ্যে ১৪ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এ ছাড়াও ৮ জনের মৃত্যুও হয়। অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ মোলনুপিরাভির তৈরি করেছে আমেরিকার ফার্মা কোম্পানি মার্ক (Merck)। এ বার জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে রেস্ট্রিক্টেড ব্যবহারের জন্য ভারতের ১৩টি সংস্থা এই পিল তৈরি করবে। ২০০ মিলিগ্রামের এই ক্যাপসুলের ডোজের কিছু নির্দেশ রয়েছে। এক দিনে দু বারে ৮০০ গ্রাম ডোজ দেওয়া যাবে পর পর পাঁচ দিনের জন্য। প্রাপ্তবয়স্ক কোভিড ১৯ রোগী, যাঁদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৩ শতাংশের উপরে রয়েছে অথবা যাঁরা ঝুঁকির তালিকায় রয়েছেন এবং কো-মর্বিডিটি ও মারাত্মক সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তা হলে তাঁদের জন্য এটা স্ট্যান্ডার্ড ডোজ।
কোভিড পিল কীভাবে দেওয়া হবে?
করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের মধ্য সব কটিই ইনট্রামাসক্যুলার ভ্যাকসিন। যা স্কিনের মধ্যে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকে। মোলনুপিরাভির প্রথমে ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হতো। এ বার এর মাধ্যমে কোভিড ১৯ রোগীদেরও চিকিৎসা করা হবে।
এটা আসলে এমন একটা পিল, যা আমাদের শরীরে প্রবেশ করা সার্স-সিওভি-২ ভাইরাসের প্রতিলিপিকরণ প্রতিরোধ করতে পারে। দিনে মোট চারটে ২০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুল খেলে দিনে মোট ৮০০ মিলিগ্রাম ডোজ শরীরে প্রবেশ করবে। পাঁচ দিনে প্রতি ১২ ঘণ্টায় এই ক্যাপসুল খেয়ে যেতে হবে।
জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে রেস্ট্রিক্টেড ব্যবহারের অর্থ কী?
এ বার আসা যাক, এই পিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে শর্ত বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গে। এই পিল ব্যবহারের একমাত্র শর্ত হল- এটা জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র রেস্ট্রিক্টেড ভাবেই ব্যবহার করা যাবে। যার অর্থ হচ্ছে, এই পিল সবাইকে খাওয়ানো যাবে না। শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদেরকেই শুধুমাত্র দেওয়া হবে এই ওষুধ। ভারতে শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক সেই সব রোগীকেই দেওয়া হবে, যাঁরা ঝুঁকির তালিকায় রয়েছেন অথবা যাঁদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
করোনাভাইরাসের অন্যান্য ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে আপডেট:
ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে যে, ভারতে খুব শীঘ্রই কোভিড ১৯ বুস্টার শট চালু করতে চলেছে। তবে এটা এখনই সবাইকে দেওয়া হচ্ছে না। হেলথকেয়ার কর্মী, ফ্রন্টলাইন কর্মী এবং এমন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি, যাঁদের কোমর্বিডিটি রয়েছে, তাঁদেরই বুস্টার শট দেওয়া হবে। এই বুস্টার শট দেওয়া শুরু হচ্ছে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে। আবার অন্য দিকে, ১৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে যাদের বয়স, তারা আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে ভ্যাকসিন পেতে চলেছে।
view comments
বাংলা খবর/ খবর/Explained/
Coronavirus: জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র অ্যান্টিভাইরাল পিল এবং দু’টি ভ্যাকসিনে
Next Article
advertisement
Himachal Pradesh Bus Accident: ৩০০ মিটার গভীর খাদে বাস, হিমাচল প্রদেশে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত অন্তত ৭! আহত বহু
৩০০ মিটার গভীর খাদে বাস, হিমাচল প্রদেশে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত অন্তত ৭! আহত বহু
  • হিমাচল প্রদেশে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা৷

  • ৩০০ মিটার খাদে বাস, মৃত অন্তত ৭ জন৷

  • আরও বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা৷

VIEW MORE
advertisement
advertisement