বয়স এখন ৯০ ছুঁইছুঁই। শরীর আর আগের মতো সাড়া দেয় না, গলায় নেই আগের সেই জোর, শ্বাসও সহজে মেলে না। তবু সুযোগ পেলেই হাতে তুলে নেন প্রিয় সানাই। প্রায় ছয় দশক ধরে সানাইয়ের সুরের সঙ্গে তাঁর জীবন জড়িয়ে আছে। বয়স যখন প্রায় ত্রিশের কাছাকাছি, তখন বাবার কাছ থেকেই প্রথম সানাই বাজানো শেখেন। সেই থেকেই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীতযাত্রা।
advertisement
সত্তরের দশকে বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠান, পুজো-পার্বণ কিংবা নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে সানাই বাজিয়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন পূর্ণবাবু। তাঁর বাজানো সানাইয়ের সুরে মুগ্ধ হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য সেই সুযোগ অনেকটাই কমে এসেছে। এখন আর আগের মতো সানাই বাজাতে পারেন না তিনি। তবে গ্রামাঞ্চলের ছোটখাটো অনুষ্ঠানে এখনও ঢোল কিংবা অন্য বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নিজের শিল্পীসত্তাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। বর্তমানে পূর্ণবাবুর ছেলে সানাই বাজান, তবে সেই আগের মতো পরিবেশ আর নেই বলেই মনে করেন তিনি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
প্রবীণ শিল্পীর আক্ষেপ, এখনকার দিনে খুব কম মানুষই সানাই শেখার আগ্রহ দেখায়। যন্ত্রের উপর নির্ভরতা বাড়ায় আসল সানাইয়ের সুর যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তবু জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও তাঁর বিশ্বাস, যদি নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহ্যকে আবার ভালবাসে, তবে সানাইয়ের সেই আবেগঘন সুর আবারও ফিরে আসবে গ্রামবাংলার আঙিনায়।





