এদিন ইডির তৎপরতা নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ। তিনি ইডির তলবকে বাংলার লোককথার ‘নিশির ডাক’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। দিলীপের মতে, ছোটবেলায় মানুষ যেমন নিশির ডাককে ভয় পেত, বর্তমানে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের কাছে ইডির চিঠি ঠিক তেমনই আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন যে, তদন্তকারী সংস্থার চিঠি আসা মাত্রই অনেক নেতার রক্তচাপ ও সুগার বেড়ে যাচ্ছে এবং তারা তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। কলকাতার গণ্ডি ছাড়িয়ে তদন্তের এই ঢেউ যে খুব শীঘ্রই জেলার আনাচ-কানাচে পৌঁছে যাবে, সেই ইঙ্গিতও এদিনের সভা থেকে দিয়েছেন।
advertisement
জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট টেনে দিলীপ ঘোষ বলেন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, হেমন্ত সোরেন কিংবা লালু প্রসাদ যাদবের মতো তাবড় নেতারাও আইনের হাত থেকে বাঁচতে পারেননি। দিল্লির উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সেখানে পরিবর্তনের ছোঁয়ায় যমুনা নদীর বিষাক্ত ও কালো জল যেমন আজ স্বচ্ছ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সেখানে নির্ভয়ে ছটপুজো করতে পারছেন, ঠিক তেমনই পরিবর্তন তিনি এ রাজ্যেও আনতে চান। খড়গপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়াই প্রধান লক্ষ্য। এলাকার বিষাক্ত রাজনৈতিক হাওয়া বদলে দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য স্বচ্ছ ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলাই উদ্দেশ্য।
ভোট ঘোষণার পর বঙ্গে ভোটপ্রচারে প্রথমবার আসছেন নরেন্দ্র মোদি, উত্তরবঙ্গে সভা। আগামী ৯ এপ্রিল, বুধবার দ্বিতীয়বার রাজ্যে আসছেন, হলদিয়ায় জনসভা। ৯ এপ্রিল আসানসোল, সিউড়ি হলদিয়ায় জনসভা। এ প্রসঙ্গে দিল্লেপ বলেন, “নমিনেশন হয়ে গিয়েছে, প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়েছে, এবার প্রচার জোর কদমে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্ব দেবেন, তাই তিনি আসছেন। সারা পশ্চিমবাংলা এবার দেখবে ভোট কী করে করতে হয়, আর ভোট কীভাবে জিততে হয়।” রবিবার জনসভা, সোমে ভোটকর্মীদের ভার্চুয়াল ভোকাল টনিক। রাজ্যের ৮০ হাজারের বেশি বুথের সভাপতি, কর্মীদের সঙ্গে কোথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। বুথ কর্মীদের কী করণীয়, কী করা উচিত, তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কীভাবে এগোতে হবে? তারই গাইডলাইন স্থির করে দেবেন।
এবার মনোবল বাড়ানোর জন্য কাজ হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও ভয় দেখাচ্ছেন লোকেদের। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করছেন। এখানে নির্বাচন কমিশন থেকে আদালত তাদেরকেও চ্যালেঞ্জ করছেন, সাধারণ কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর দরকার রয়েছে, যাতে তারা বেরিয়ে গিয়ে ভোট করেন। প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্ব দেবেন নিজে তাতে। এদিকে, মালদহের মোথাবাড়ি হিংসার তদন্তে উঠে আসছে গভীর ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব। হামলার আশঙ্কা করেই সতর্ক করেছিলেন বিচারকরা, তা সত্ত্বেও গাফিলতি কেন পুলিশ প্রশাসনের তরফে? তিনি বলেন, সতর্ক তো এখন করছেন ওনারা, আমরা তো বছরের পর বছর বলে আসছি ওখানে অ্যান্টি ন্যাশনাল ফোর্সেস অ্যাক্টিভ রয়েছে। সেখানে থানা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ পালিয়ে গিয়েছিল। ওই এলাকা ওনার মুক্তাঞ্চল হয়ে গিয়েছে। সেখানে রাস্তা করতে দেওয়া হয় না, কাঁটাতারের বেড়া দিতে দেওয়া হয় না। আমাদের ধারণা আদালত নিজে হাতে নিয়েছেন, NIA নেমেছে।
বিজেপির পঞ্চম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়েছে, তিন কেন্দ্রে প্রার্থী বদল হয়েছে। বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে এই নিয়ে তৃতীয়বার প্রার্থী বদল। এখনও কলকাতা পোর্ট আসনে প্রার্থী বাকি ঘোষণা। এ প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, “ম্যাক্সিমাম অ্যানালাইসিস করে আমরা প্রার্থী দিচ্ছি, যাতে জেতার জন্য কোনও সমস্যা না হয়। সংগঠনের মধ্যে কিছু সমস্যা থাকে। নতুন লোককে প্রার্থী করতে হয়। কর্মীদের মেনে নিতে একটু সময় লাগে। কিন্তু সবাই মিলে লড়বে বাংলায় পরিবর্তন হবে।”
নির্বাচনী প্রচারে দিলীপের ঘোষের স্ট্রাটেজি প্রসঙ্গে দিলীপের দাবি, খড়্গপুরে আগে দুবার আমি ইলেকশন লড়েছি, আমি কোনও সভা সমিতি করি না। আমি পাড়ায় পাড়ায় ঘুরি। জনসম্পর্ক করি, লোকের সঙ্গে দেখা করি, এটা সারা বছর থাকে। কিন্তু নির্বাচন একবার ভোট দেওয়ার জন্য আপিল করতে যাই। বাকি আমার কর্মীরা বুথে বুথে বেরিয়ে বাড়ি বাড়ি সম্পর্ক করছেন, লিফলেট দিচ্ছেন, এটা চলবে। লোক বিজেপিকে ভোট দেবে। আমাকে খড়্গপুরের বাইরে কিছু জায়গা প্রচার করতে যেতে হবে। সেই জন্য বিশেষ বিশেষ জায়গায় গিয়ে আমি লোকের সঙ্গে দেখা করব।
