পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নারায়ণগড় ব্লকের শ্যামপুরা এলাকায় এখন এই দৃশ্যই চোখে পড়ছে। আধা ভেজা গুঁড়ো মাটি ব্যবহার করে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে তৈরি হচ্ছে শতাধিক মাটির চায়ের কাপ। নারী-পুরুষ উভয়েই এই কাজে যুক্ত। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এক এক জন কর্মী প্রচুর সংখ্যক কাপ তৈরি করতে পারছেন, যা আগে কল্পনাও করা যেত না।
advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে প্রতিদিন প্রায় বেশ কয়েক হাজার চায়ের কাপ তৈরি হচ্ছে। গুঁড়ো আধ ভেজা মাটি ব্যবহারে দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে কাপ। স্বাভাবিকভাবে খুব দ্রুত ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। তৈরি হওয়া এই কাপগুলি পাইকারি দরে প্রতিটি দেড়-দুই টাকায় বিক্রি হয়। চাহিদাও নেহাত কম নয়। আশেপাশের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে দূরবর্তী এলাকাতেও এই কাপ পাঠান হয়।
এই উদ্যোগে সবচেয়ে লাভবান হচ্ছেন এলাকার মহিলারা। সংসারের কাজ সামলে অনেকেই দিনে কয়েক ঘণ্টা সময় দিয়ে এই কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এর ফলে তাঁদের মাসিক আয় প্রায় ১০-১২ হাজার টাকায় পৌঁছচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে একজন কর্মীর রোজগার হচ্ছে প্রায় ৩০০-৪০০ টাকা, যা গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। যন্ত্রের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়লেও মাটির কাপের স্বাদ ও গন্ধে কোনও ভেজাল নেই বলেই মনে করছেন চা-প্রেমীরা। অনেকের মতে, মাটির কাপে চা খেলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়, সঙ্গে পরিবেশবান্ধব দিকটিও বজায় থাকে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
প্রাচীন কুমোরশিল্পের ঐতিহ্যকে নতুন প্রযুক্তিতে বদলে নারায়ণগড়ের শ্যামপুরা এলাকার এই উদ্যোগ আজ নজর কাড়ছে সকলের। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা মেটাতে এই উদ্যোগ আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে বলেই আশা স্থানীয়দের।





