স্কুল লাইব্রেরি সমবায় থেকে বাজার, প্রকৃত গ্রাম গড়তে সে সময় যে মানুষগুলি নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তাঁদের আজও গ্রামের মানুষ দেবতা মনে করেন, করেন তাঁদের পুজো। বিপ্লবী সত্যচরণ দাস এবং বিপ্লবী বলাই চন্দ রায়ের মতো মানুষরা আজও পূজিত হন এই গ্রামে।
advertisement
হাওড়া জেলার পাঁচলা ব্লকের জয়নগর গ্রাম বর্তমানে সমৃদ্ধ একটি গ্রাম। বর্তমানে এই গ্রাম জেলায় উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো অবস্থান করছে। কিন্তু কয়েক দশক আগেও এই গ্রামের চিত্র ছিল ভিন্ন।
শহর থেকে অনেকখানি দূরে এই গ্রাম ছিল জঙ্গলময় কৃষি নির্ভর একটি গ্রাম। অধিকাংশ পরিবার ছিল অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে। তখনও শিক্ষার প্রসার সেভাবে ঘটেনি। অন্ধকারাচ্ছন্ন এই গ্রামকেই স্বাধীনতার পূর্বে ব্রিটিশ শাসনকে উৎখাত করতে বিপ্লবীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা কর্মকাণ্ডর সঙ্গে জড়িত বিপ্লবীদের আপন করে নিয়েছিল গ্রামের মানুষ। সেই সময় বিপ্লবী বলাইচন্দ রায়, সত্যচরণ দাস দের মতো স্বাধীনতার সংগ্রামীরা নেতাজির আদর্শে স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে, সারা বাংলা জুড়ে স্বাধীনতার সংগ্রামে মানুষকে সঙ্গবদ্ধ করার দায়িত্ব কাঁধ নিয়েছিলেন। এই গ্রামই স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গ্রাম ও গ্রামের মানুষকে পথ দেখিয়েছিলেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তাঁদের হাত ধরেই গ্রামে তৈরি হয়েছিল ব্যায়ামাগার, বিদ্যালয়, সমবায়, ক্লাব, পাঠাগার বাজার-সহ নানা প্রতিষ্ঠান। শুধু মনে রাখা নয়, গ্রামের মানুষের হৃদয়ে গেঁথে রয়েছেন তাঁরা। গ্রামের মানুষের আজও এমন কিছু কর্মকাণ্ড যা অবাক করার মতো। আর আশ্চর্যের বিষয়, কোনও রাজনৈতিক বনধে জয়নগর বাজার বন্ধ না হলেও স্বাধীনতা সংগ্রামীর মৃত্যু (৪ ঠা ভাদ্র) দিনে বন্ধ থাকে বাজার। এই বিশেষ দিনে গ্রাম জুড়ে অরন্ধনের উপোস চলত। গ্রামের মানুষের শ্রদ্ধা ভক্তি সারা দেশে প্রায় বিরল।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় মানুষ প্রাক্তন বিধায়ক এবং নেতাজি অনুরাগী জানান, গ্রামের মানুষকে যারা পথ দেখিয়েছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে। সেই সমস্ত মানুষকে জয়নগর গ্রামের মানুষ কখনও ভোলেনি, কখনও ভুলবেনা। তাঁরা গ্রামের মানুষের কাছে দেবতাতুল্য মহাপুরুষ।





