পড়াশোনা শেষ করে দীর্ঘদিন ধরে আইআইটি খড়গপুরেই অধ্যাপনা করছেন তিনি। বর্তমানে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলালেও শিক্ষার্থীদের পড়ানো থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেননি। নিয়ম করে এখনও ক্লাস নেন এবং ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সময় কাটান। তার সহজ-সরল ব্যবহার এবং মিষ্টিভাষী স্বভাবের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছেও তিনি অত্যন্ত প্রিয়।
advertisement
ছাত্রছাত্রীদের তিনি নিজের সন্তানের মতই দেখেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আইআইটির কাজ এবং শিক্ষার্থীদের উন্নতির জন্য তিনি নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যান। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যখন তিনি আইআইটি খড়গপুরে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন, তখন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মেয়েদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিস্থিতি বদলাতে তিনি নানা উদ্যোগ নিয়েছেন।
বর্তমানে আইআইটি খড়গপুরে একাধিক মেয়েদের হোস্টেল এবং পড়াশোনার উন্নত পরিবেশ তৈরিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।আইআইটি খড়গপুরের ৭৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও মহিলা ডেপুটি ডিরেক্টর হওয়ায় তার এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে প্রশাসনিক দায়িত্ব বা অধ্যাপনার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে গ্রামীণ এলাকার মানুষের উন্নয়নেও কাজ করে চলেছেন।
বিশেষ করে লোধা সম্প্রদায়ের মহিলাদের স্বনির্ভর করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছেন। কাজুর পাকা ফল ব্যবহার করে হেলথ ড্রিঙ্ক, জ্যাম ও জেলি তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের আয়ের পথ খুলে দিয়েছেন। এই প্রযুক্তি ও উদ্যোগ এখন শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আজ আইআইটির মত মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান এবং সমাজের জন্য কাজ করে চলা—সব মিলিয়ে অধ্যাপিকা রিন্টু ব্যানার্জির জীবন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।





