প্রথম জীবনে শিক্ষাশুরু বাসন্তীর নারায়ণতলা রামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দিরে (উঃমাঃ)। সেখান থেকে ২০০৪ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন। ২০০৬ সালে বাসন্তী উচ্চমাধ্যমিক হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। আর্থিক অনটনের জন্য আর পড়াশোনা হয়ে ওঠেনি। তবে স্কুলে পড়াশোনা করাকালীন সুন্দরবনের মানুষের জীবন, আদর্শ, কবিতা, গল্পের মধ্য দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। প্রথম দিকে কর্ণধরের এমন কর্মযঞ্জকে কেউই প্রাধান্য দিতেন না। ২০১৩ সালে বাসন্তী থানায় সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজে যোগদান করেন কর্ণধর। অর্থনৈতিক সমস্যা সামান্য মিটলেও দারিদ্রতাকে উপেক্ষা করে কলম ধরে এগিয়ে চলেন।
advertisement
তবে সেই সময় প্রতিভার বিকাশ সম্পর্কে অবহিত হয়ে বাসন্তী থানার পুলিশ কর্মীরা এবং কয়েকজন বন্ধুবান্ধব লেখালেখির ব্যাপারে তাকে সবসময় উৎসাহিত দিতেন। ২০২০ সালে তাঁর লেখা ’অনুরাগের শেষ গোধূলি’ প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কবিতা গল্প প্রকাশিত হতে থাকে। প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার পর সাফল্য আসে।
তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৪টি। ৩টি কবিতার “একবিংশ শতাব্দীর বুকে মানবতা খুঁজছি”,”দগ্ধ বহ্নিশিখা “,”অনুরাগের শেষ গোধূলি “ও ১টি গল্পের “বাস্তব দর্পন”। এছাড়া প্রায় ৫০টির উপরে যৌথ বইয়ে লেখা প্রাকাশ পেয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হয়। আরও দুটি কবিতার বই প্রকাশ পেতে চলেছে। “আগামী পৃথিবীর জন্য” ও “জাগরণের পথে”। এখনও পর্যন্ত তাঁর সৃষ্ট কবিতার সংখ্যা প্রায় ১৬০০-র কাছাকাছি। ৩০টি গল্প ও ২টি উপন্যাস লিখেছেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
হাতের কলমের জোরে বহু সম্মান প্রাপ্তি ঘটেছে। কলকাতা আন্তর্জাতিক অনু-চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্যোগে- অনুকৃষ্টি সম্মান-২০২০। এছাড়া সাহিত্যের হাত ধরে পাওয়া কিছু প্রাপ্তি। যেমন, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কবি সম্মেলন হইতে প্রাপ্তি “শরৎ স্মৃতি সম্মান-২০২২”, “কলম যোদ্ধা সম্মান”, আন্তর্জাতিক সাহিত্য আড্ডা হাওড়ার স্বজনের উদ্যোগে “তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় স্মৃতি সম্মান-২০২২”, নদিয়ার নব জাগরণ পত্রিকা থেকে “নজরুল স্মৃতি সম্মান-২০২২”, “পার্থ ঘোষ স্মৃতি সম্মান”, “রবীন্দ্র সম্মান-২০২৩”, তারকেশ্বর শ্রুতি সাহিত্য পত্রিকা থেকে “বাংলার গর্ব সম্মান-২০২৩”, “অনুকৃতি সম্মান- ২০২৪”, “অপরাজিত সাহিত্য সম্মান-২০২৪” ও হুগলির মঙ্গল দীপ সাহিত্য পত্রিকা থেকে” বীণাপাণি সম্মান-২০২৪”।
কর্ণধর মন্ডলের কথায় আগামী দিনে সুন্দরবনের মানুষের জীবনযাত্রা দেশ তথা আন্তর্জাতিকস্তরে তুলে ধরার জন্য তার এমন প্রয়াস। এছাড়াও সুন্দরবনের পিছিয়ে পড়া বাসন্তী ব্লক কিংবা বাসন্তী থানার সুনাম যাতে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তার জন্য গল্প, কবিতার মাধ্যমে সচেষ্ট হবেন। কারণ জন্মভূমির পরিচয় যদি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে সেটাই হবে মানব জীবনের বিশেষ পাওয়া।





