একদা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর উপস্থিতিতে পুরীতে রথযাত্রার মহাধুমধামের মধ্যেই হঠাৎ করে রথের রশি ছিঁড়ে যায়। শোনা যায়, সেই সময় শ্রীচৈতন্যদেব পট্টডোরী আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের কুলীনগ্রামের লক্ষ্মীকান্ত বসু-কে। ৫০০ বছর আগের সেই ঘটনার পর থেকেই নিয়ম করে লক্ষ্মীকান্ত-সহ চৈতন্যভক্তরা নাম গানের মাধ্যমে পায়ে হেঁটে প্রতিবছর রথের সময় পুরী যেতেন, সঙ্গে যেত পট্টডোরী। মাঝে ছেদ পড়লেও শতকের পর শতক ধরে এই প্রথা চলে এসেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের কুলীনগ্রামে। কয়েকশো বছর ধরে পট্টডোরী পাঠানোর পরম্পরা চলে আসার পর আস্তে আস্তে তা পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। পরিবর্তে কুলীনগ্রাম থেকে পাট ও শেন দিয়ে তৈরী বিশেষ ওই দড়ির উপকরণ একটি প্যাকেটে ভরে পাঠানো হত পুরীতে।
advertisement
মূল দড়ির সঙ্গে ওই উপকরণকে ছুঁইয়ে নেওয়া হত। কিন্তু এরপরই বসু পরিবারের সদস্যরা কুলীনগ্রাম থেকে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েন। ফলে দড়ির ওই উপকরণও পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। কুলীন গ্রামে জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন লক্ষীকান্ত বসু, এখানে শুরু হয় রথযাত্রা।পরবর্তী সময়ে কুলীনগ্রামের রথযাত্রা উৎসব ব্যাপক প্রসার লাভ করে। আজও ঐতিহ্য মেনে কুলীনগ্রামের এই রথ টানা হয়। বসু পরিবারের উদ্যোগেই কুলীনগ্রামে রথযাত্রা শুরু হয়েছিল।কাঠের তৈরি রথটির উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে প্রায় ১৬ ফুট। রয়েছে ৬টি লোহার চাকা। তিনটি ধাপ রয়েছে রথে।
আরও পড়ুনঃ পোষা কুকুর কেন সবসময় দরজার কাছেই ঘুমোয়? সবাই দেখলেও কারণ জানেন ১০০% কুকুরপ্রেমীও, জানুন
রীতি মেনে প্রথম রথের চারপাশে বিগ্রহগুলি সাতবার ঘোরানো হয়। এরপর রথের সবথেকে উঁচু ধাপে বসানো হয় বিগ্রহ। রথে বিগ্রহ বসানোর পর ফের পুজোপাঠ হয়। রথের দিন বিকালে রথ টেনে নিয়ে যাওয়া হয় কুলীন গ্রামের রথতলায়। এই গ্রামের রঘুনাথ জিউ-এর মন্দির জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি বলে পরিচিত। তিন দেবতার বিগ্রহ নামিয়ে রঘুনাথ জিউয়ের মন্দিরে রেখে আসেন। উল্টোরথের দিন ঠিক একইভাবে তিন দেবতার বিগ্রহ ফের জগন্নাথ মন্দিরে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়।





