East Medinipur News: দু’চোখে দেখতে পান না, তবু গড়েছেন হাজারও ছাত্রের ভবিষ্যৎ! কাঁথির সৌমিতা আজ অনুপ্রেরণা
- Reported by:Madan Maity
- Published by:Riya Das
Last Updated:
East Medinipur News: দু'চোখে দেখতে পান না, তিনি কীভাবে পড়াবেন? অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন। কখনও স্কুলে, কখনও শ্বশুরবাড়িতে শুনতে হয়েছে কটু কথা। তিরস্কারের শেষ ছিল না। কিন্তু তিনি হার মানেননি। নিজের যোগ্যতা দিয়ে সকলকে উত্তর দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কাঁথির জুকিভেড়ি মাতঙ্গিনী বিদ্যাপীঠের ইংরেজি শিক্ষিকা।
কাঁথি, মদন মাইতি: দু’চোখে দেখতে পান না তিনি। অথচ গড়ে তুলেছেন হাজারও ছাত্রের ভবিষ্যৎ। কাঁথির সৌমিতা মিশ্র আজ অনুপ্রেরণার এক নাম। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথির রঘুরামপুর গ্রামে তাঁর বড় হয়ে ওঠা। সাধারণ পরিবারে জন্ম। পরিবারের অষ্টম সন্তান। তৃতীয় দৃষ্টিহীন কন্যা। ছোটবেলা থেকেই জীবনের লড়াই শুরু। প্রাথমিক পড়াশোনা ব্লাইন্ড স্কুলে। তারপর কাঁথি হিন্দু গার্লস স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক। পড়াশোনার প্রতি ছিল গভীর আগ্রহ। চোখে দেখতে না পেলেও স্বপ্ন দেখতে কখনও থামেননি তিনি।
উচ্চ মাধ্যমিকের পর কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এই পথ মোটেই সহজ ছিল না। মাঝপথে আসে পিতৃবিয়োগের বড় আঘাত। সেই কষ্ট বুকে নিয়েই এগিয়ে চলেন তিনি। অনেক সময় বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও পেয়েছেন উৎসাহও। পরিবারের সদস্যরা পাশে ছিলেন। সেই সাহসই তাঁকে সামনে এগিয়ে যেতে শক্তি দিয়েছে।
advertisement
আরও পড়ুন-ঘুমের মধ্যেই সব শেষ! প্রয়াত টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা তমাল রায় চৌধুরী, টলিউডে শোকের ছায়া
দীর্ঘ সংগ্রামের পর ২০০৫ সালে জীবনে আসে নতুন অধ্যায়। শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন তিনি। শুরুতেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। দু’চোখে দেখতে পান না, তিনি কীভাবে পড়াবেন? অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন। কখনও স্কুলে, কখনও শ্বশুরবাড়িতে শুনতে হয়েছে কটু কথা। তিরস্কারের শেষ ছিল না। কিন্তু তিনি হার মানেননি। নিজের যোগ্যতা দিয়ে সকলকে উত্তর দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কাঁথির জুকিভেড়ি মাতঙ্গিনী বিদ্যাপীঠের ইংরেজি শিক্ষিকা। নিষ্ঠা আর ভালবাসা দিয়ে ছাত্রদের পড়ান। স্কুলের সহকারী শিক্ষক শিক্ষিকারাও তাকে সঙ্গ দেন।
advertisement
advertisement
আরও পড়ুন-ঋতাভরীর পরিবারে আসতে চলেছে নতুন অতিথি, নারীদিবসের দিনই সুখবর দিলেন নায়িকা
বিদ্যালয়ে তিনি ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রিয় শিক্ষিকা। ছাত্র-ছাত্রীদের তিনি নিজের সন্তানের মতই স্নেহ করেন। প্রতিটি বিষয় ধৈর্য নিয়ে বোঝান। ছাত্ররাও তাঁকে অসম্ভব ভালবাসে। ক্লাসে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে বাড়ি ফেরার সময় অটোতে তুলে দেওয়া—সবকিছুই তার ছাত্র-ছাত্রীরাই করেন। শুধু পড়াশোনা নয়, গানের গলাতেও তিনি অসাধারণ। তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হন সবাই। জীবনের লড়াইয়ে জয়ী এই শিক্ষিকাকে সম্মান জানিয়েছে সমাজও। কখনও রাজ্যপাল, কখনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন। দৃষ্টিহীন হয়েও তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনও বাধাই বড় নয়। সত্যিই কুর্নিশ জানাতে হয় সৌমিতা মিশ্রের মত এমন এক শিক্ষিকাকে।
Location :
Kolkata,West Bengal
First Published :
Mar 09, 2026 12:07 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/পূর্ব মেদিনীপুর/
East Medinipur News: দু’চোখে দেখতে পান না, তবু গড়েছেন হাজারও ছাত্রের ভবিষ্যৎ! কাঁথির সৌমিতা আজ অনুপ্রেরণা









