মন্তুবাবুর নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। অক্সিজেনের স্যাচুরেশন মাত্রা ৫০ শতাংশে নেমে যায়। তাঁর বেশ কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। সেই সময় ডিউটিতে ছিলেন ডঃ এস কে মাহালী ও তাঁর টিম। তড়িঘড়ি ওই রোগীর চিকিৎসা শুরু করেন তাঁরা। পরীক্ষায় টাইপ-২ রেসপিরেটরি ফেলিওর ও রেসপিরেটরি অ্যাসিডোসিস ধরা পড়ে, ফলে জরুরি ভিত্তিতে ইন্টুবেশন ও ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হয়। ডঃ মাহালি ও আইসিইউ টিম দ্রুততার সঙ্গে রোগীর এয়ারওয়ে সুরক্ষিত করার কাজ শুরু করেন। ম্যাগিলো ফোর্সেপ ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেটি বের করা হয়। উদ্ধার হওয়া বস্তুটি ছিল প্রায় সাত থেকে পাঁচ সেন্টিমিটারের একটি হাড় সহ মাংসের টুকরো।
advertisement
ভেন্টিলেশনের পর রোগী অস্থির হয়ে পড়লে মিডাজোলাম দিয়ে সেডেশন দেওয়া হয়। অ্যানেস্থেশিয়া অন-কলের পরামর্শে ফেন্টানিল ইনফিউশন শুরু করা হয়। এই বিষয়ে আইসিইউ মেডিক্যাল অফিসার ড. মাহালী বলেন, প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন ওই মাংসপিণ্ড টিউমার হতে পারে। তাই কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তার বিষয় ছিল। তাই খুবই সাবধানে ওই মাংসপিণ্ডটি বের করা হয়। তবে পরবর্তীতে দেখা যায়, সেটি কোনও টিউমার নয়। বরং হাড় সহ মাংসের টুকরো, যা খেতে গিয়ে ওই রোগীর গলায় আটকে গিয়েছিল। তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই বিষয়ে মন্তুবাবু বলেন, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করে মাংস খেয়েছিলেন। সেই সময় কীভাবে গলায় মাংসের টুকরো আটকে গিয়েছিল তা তিনি বুঝতে পারেননি। শ্বাসকষ্টের সমস্যা হলে তিনি হাসপাতালে আসেন। তবে বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন তিনি। পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় বড়সড় ক্ষতির মুখ থেকে রক্ষা পেলেন পুরুলিয়ার বাসিন্দা মন্তু বাউরী। এটি হাসপাতালের অন্যতম সাফল্য বলে মনে করছেন শহরবাসী।






