প্রথম হাতেখড়ি আনন্দ গোপাল দাস বাউলের কাছে। পরবর্তীতে গুরু দেবদাস বাউলের সান্নিধ্যে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক মেলা, সাধুসভা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে নিজেকে গড়ে তোলেন। ট্রেনে ট্রেনে গান গেয়ে সংসার চালানো থেকে শুরু করে বড় মঞ্চের শিল্পী হয়ে ওঠা, তাঁর জীবনযাত্রা যেন এক সংগ্রাম ও সাধনার কাহিনি। কার্তিক দাস বাউল বলেন, ‘বঙ্গভূষণ দেবে, এটা আমার কল্পনার বাইরে ছিল। যাই হোক, খুব খুশি। যে একজন এই জায়গা থেকে উঠে আসা একজন শিল্পীকে বঙ্গভূষণ দেওয়াটা, এটা মানে কী বলব আর, কোনও জন্মে নিশ্চয়ই কিছু করেছিলাম বলে আজ এটা পেয়েছি। আজ শুনছিলাম শ্রীকান্ত আচার্যর একটা সাক্ষাৎকার যে ভাল জিনিস পেতে গেলে কিছু করে আসতে হয়। নাহলে পাওয়া যায় না। আর একটাই কথা বলি যে দর্শকদের ভালবাসা আছে, গুরুর কৃপা আছে, গোবিন্দর কৃপা আছে, তাই আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছি।’
advertisement
আরও পড়ুন-বিরাট সুখবর! নৈহাটির বড়মার মন্দিরে গিয়ে আর দিতে হবে না লাইন! কারা পাবেন বিশেষ সুবিধা? জানুন
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মঞ্চেও সমানভাবে সমাদৃত তিনি। অল্প বয়সেই আমেরিকায় অনুষ্ঠান দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে পা রাখেন। এরপর বাংলাদেশ, জাপান, জার্মানি, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডা-সহ একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর বাউলগানের সুর। চলচ্চিত্র জগতেও রেখেছেন স্বাক্ষর, বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক ছবিতে গান ও অভিনয়, পাশাপাশি একাধিক ভারতীয় ছবিতেও কণ্ঠদান করেছেন।তবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও তিনি রয়ে গেছেন মাটির মানুষ। আজও বোলপুরের আলু টিয়া এলাকায় নিজের আশ্রমঘরে বসেই চলে গান-বাজনা, আড্ডা আর অনুরাগীদের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ। তাঁর বিশ্বাস শিল্পীর আসল শক্তি হল দর্শকের ভালবাসা ও গুরুর আশীর্বাদ।
স্থানীয় বাসিন্দা পাঞ্জাব শেখ বলেন, ‘সত্যিই কার্তিক দার এই সাফল্যে আমরা খুবই আনন্দিত।’ ‘বঙ্গভূষণ’ প্রাপ্তি সম্পর্কে তাঁর সরল মন্তব্য, এই সম্মান সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু পূর্ব বর্ধমানের মানুষের কাছে এটি শুধু একজন শিল্পীর সম্মান নয়, গোটা জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি। কার্তিক দাস বাউলের এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে। সত্যিই আবারও প্রমাণিত হল সাধনা, নিষ্ঠা ও মানুষের ভালবাসাই শিল্পীকে পৌঁছে দেয় বিশ্বমঞ্চে।





