একসময় কাজ সেরে সন্ধ্যা নামলেই সুন্দরবন ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ একত্রিত হয়ে জমিয়ে তুলতেন যাত্রার আসর। পৌরাণিক কাহিনি থেকে লোকগাথা বেহুলা-লখিন্দর, মহাভারত, বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না-সহ নানা কাহিনি প্রাণ পেত মঞ্চে। কিন্তু স্মার্টফোনের দাপটে সেই চেনা ভিড় এখন আর চোখে পড়ে না।
advertisement
তবুও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কিছু সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের দুলদুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকায় অনুষ্ঠিত হল যাত্রাপালা ‘দুর্যোধনের বিচার চাই’। তাপস কুমার রচিত এই যাত্রাপালা গত ৩৬ বছর ধরে মঞ্চস্থ করে আসছেন স্থানীয় শিল্পীরা। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন দুলদুলির বাসিন্দা ও যাত্রা সংস্থার কর্ণধার সন্তোষ কুমার মণ্ডল।
আরও পড়ুনঃ সরকারি কাজের জন্য আর হয়রানি নয়! ব্লক অফিসে চালু হল নতুন ওয়েবসাইট, সরকারি প্রকল্পে আবেদন ঘরে বসেই
তিনি জানান, “নতুন প্রজন্ম যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতি ধীরে ধীরে মুছে যাবে। খুব কষ্ট করে এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছি, যতদিন বাঁচবো ততদিন যাত্রা চালিয়ে যাব।” বংশপরম্পরায় এই সংস্কৃতি ধরে রাখার বার্তাও দেন তিনি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ডিজিটাল যুগের ঝাঁ চকচকে বিনোদনের মাঝেও সুন্দরবনের মাটিতে আবারও প্রমাণ হল – যাত্রাপালা এখনও মানুষের আবেগের জায়গা দখল করে আছে। ঐতিহ্য রক্ষায় এমন উদ্যোগই গ্রামবাংলার সাংস্কৃতিক শিকড়কে আরও মজবুত করবে বলেই মনে করছেন যাত্রা অনুরাগীরা।





