এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা রেজিনগর থেকে সর্বাঙ্গপুর যাওয়ার রাজ্য সড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে রাখেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। বিক্ষোভ চলার সময় রাজ্যের মন্ত্রী ওই মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়৷ মাদ্রাসাও তালা লাগানোর অভিযোগও উঠেছে৷ পরে রেজিনগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
advertisement
এসডিপিও (বেলডাঙা) উত্তম কুমার গড়াই জানিয়েছেন, “রাজ্যের মন্ত্রীকে তালা বন্ধ করে রাখার মতো কোনও ঘটনা হয়নি। এলাকায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহত ওই শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। “
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর নাগাদ রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর গাড়ির একটি কনভয় রেজিনগর থানার কাশিপুর-বদরনগর এলাকার একটি মাদ্রাসায় যাচ্ছিল। কনভয়ের একটি গাড়ি যখন রেজিনগর-সর্বাঙ্গপুর রাস্তা দিয়ে গ্রামের দিকে প্রবেশ করছিল সেই সময় ওই গাড়ির সঙ্গে এক শিশুর ধাক্কা লাগে বলেই অভিযোগ৷
আরও পড়ুন: ‘হাল ছেড়ো না…’ ২ বারের ব্যর্থতাকে হারিয়ে জয়! NET-এ বাংলায় প্রথম যাদবপুরের লোপামুদ্রা
স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, শনিবার দুপুরে দেড়টা নাগাদ কাশিপুর মিলন সংঘ ক্লাবের কাছে এলাকার বেশ কিছু বাচ্চা রাস্তার পাশে খেলা করছিল।সেই সময় রাজ্যের মন্ত্রীর কনভয় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ওই এলাকা দিয়ে চলে যাওয়ার সময় সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর গাড়ির ঠিক পেছনে থাকা একটি গাড়িতে আরমান শেখ নামে এক ব্যক্তির বছর সাতেকের সন্তানের ধাক্কা লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিশুটি রাস্তায় পড়ে গেলে গ্রামবাসীরা মন্ত্রীর কনভয়কে ধাওয়া করতে শুরু করে বলেই সূত্রের খবর।
এই ঘটনার পরই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এলাকার বাসিন্দারা। তারা রেজিনগর-সর্বাঙ্গপুর রাস্তা অবরোধ করে উত্তেজিত জনতা। অভিযোগ উঠেছে এই সময় কাশিপুর গ্রাম থেকে বেশ কিছু গ্রামবাসী বদরনগর এলাকায় ওই মাদ্রাসায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভ চলার সময় রাজ্যের মন্ত্রী ওই মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। উত্তেজিত জনতা বিক্ষোভ চলার সময় ওই মাদ্রাসার গেটে তালা লাগিয়ে দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও পরে পুলিশ গিয়ে সেই তালা খুলে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রীর কনভয়ের গাড়ির ধাক্কায় যে শিশুটি আহত হয়েছিল তাঁর আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বেলডাঙা হাসপাতাল থেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়েছে।মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে শিশুটির সিটি স্ক্যান সহ আরও একাধিক পরীক্ষা চলছে।






