এই অভিনব উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন একজন সাধারণ বাসচালক ইন্তিয়াজ খান। পরিবেশের প্রতি ভালবাসা থেকেই তিনি নিজের উদ্যোগে বাসের ভেতরে সাজিয়ে তুলেছেন বিভিন্ন ফুলগাছ, ইনডোর প্ল্যান্ট ও পাতাবাহার দিয়ে এক অনন্য সবুজ পরিবেশ। প্রতিমাসে নিজের বেতনের কিছু টাকা বাঁচিয়ে তিনি গাছ কিনে আনেন। সেই গাছ দিয়েই ধীরে ধীরে বাসটিকে সাজিয়ে তুলেছেন এক চলন্ত বাগানে। এর পাশাপাশি শুধু মাত্র মেয়ে পুতুল ঝুলিয়ে রেখে বার্তা দিচ্ছেন নারী সুরক্ষার, নারী শ্রদ্ধার। বাসে উঠে কোনও শিশুর তা পছন্দ হলে তিনি পুতুল দিয়ে বার্তা দেন মেয়েদের সম্মান করার, সুরক্ষা দেওয়ার।
advertisement
ইন্তিয়াজের কথায়, “আমি যদি বাসে গাছ লাগাতে পারি, তাহলে আপনারা বাড়িতে কেন গাছ লাগাতে পারবেন না?” মূলত যাত্রীদের মধ্যে সবুজায়নের বার্তা আর নারী শ্রদ্ধার বার্তা ছড়িয়ে দিতেই তাঁর এই উদ্যোগ।
বাসে ওঠা যাত্রীরাও এই উদ্যোগ দেখে মুগ্ধ। অনেকেই ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছেন, কেউ আবার সরাসরি ধন্যবাদ জানাচ্ছেন চালককে। যাত্রীদের মতে, এমন উদ্যোগ শুধু বাসযাত্রাকে সুন্দরই করে না, পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও ছড়িয়ে দেয়। ইন্তিয়াজ খানের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে অন্যদেরও। জলপাইগুড়িতে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের আরও কয়েকজন বাসচালক তাঁর দেখাদেখি বাসের ভেতরে ‘গার্ডেন’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। একজন সাধারণ মানুষের ছোট্ট উদ্যোগ যে কত বড় বার্তা দিতে পারে, তারই এক সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছেন বাসচালক ইন্তিয়াজ খান। তাঁর সবুজ ভাবনাই এখন পথচলার সঙ্গী হয়ে উঠছে অসংখ্য যাত্রীর।
Surajit Dey





