পড়ুয়াদের মধ্যে এইচআইভি পজিটিভের সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ জেলা স্বাস্থ্য দফতরের একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমকামীদের আক্রান্ত হওয়ায় ঘটনাও উদ্বেগজনক। ২০২৪ সালে যেখানে ছাত্রদের পজিটিভের সংখ্যা ছিল ২৪ জন। সেখানে ২০২৫ সালে ৩৭ জন ছাত্র এইচআইভি পজিটিভ। পাশাপাশি, টেস্টের সংখ্যা বাড়ায় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলায় এইচআইভি সংখ্যা ৩৩২ জন। এর মধ্যে ৯০ জন সমকামী।
advertisement
আরও পড়ুন: ‘বাংলায় বিজেপির চতুর্থ হার দূরে নয়!’ সংসদে ঝোড়ো ইনিংস অভিষেকের! মধ্যবিত্তের কর-বোঝা নিয়ে মোদিকে তোপ
২০২৫ সালে এইচআইভি পজিটিভের সংখ্যা ৩১৪ জন। ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পজিটিভের সংখ্যা ১৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সবে ১৪ বছর অতিক্রম করা নাবালক থেকে পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রৌঢ়ও রয়েছেন। স্বাস্থ্য দফতরের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে একদিকে যেমন পড়ুয়াদের মধ্যে পজিটিভের সংখ্যা বৃদ্ধি, অন্যদিকে সমকামীদের পাল্লা দিয়ে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা।
স্বাস্থ্য দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালে জেলায় ৩১৪ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ মিলেছে। ২০২৪ সালে যেখানে ২৫৭ ও ২০২৩ সালে ২৫৮ ছিল। পাল্লা দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যাবৃদ্ধির থেকে উদ্বেগের জায়গা হল নাবালক ও বেশি বয়সিদের মধ্যে এই ভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি সমকামীদের মধ্যেও সংখ্যাবৃদ্ধি যথেষ্ট উদ্বেগের। এইচআইভি গাইডলাইন অনুযায়ী সংক্রমিতদের পরিচয়, ঠিকানা, জীবিকা কিছুই জানার কথা নয়। কিন্তু এ নিয়ে কাজ করা নানা সংস্থার দাবি, পুরুষ যৌনকর্মীদের অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত ও আর্থিক ভাবে স্বচ্ছ্বল।
স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জেলায় এইচআইভি আক্রান্ত ছিল ২৫৮ জন।২০২৪ সালে ২৫৭ জন। সেই সংখ্যায় ২০২৫ -এ দাঁড়ায় ৩১৪ জন। ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সংখ্যা ১৮ জন। সমকামীর সংখ্যা ২০২৩ সালে ছিল ২২ জন। পরের বছর ২৮ জন। ২০২৫-এ তা দাঁড়ায় ৯০ জনে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত আর্থিক বছরে যেখানে টেস্ট হয়েছিল ১, ১২০০০ হাজার সেখানে বর্তমান আর্থিক বছরে এখনই ১,৪৫,০০০ হাজার।
আরও পড়ুন: মোবাইল নিয়ে হলে ঢুকেছিল, একাধিক পড়ুয়ার মাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল! জানিয়ে দিলেন পর্ষদ সভাপতি
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, ”সংখ্যার হিসেবে ২০২৩ ও ২৪ সালের থেকে সংখ্যাটা বেড়েছে। টেস্টের সংখ্যা বাড়ায় পজিটিভের সংখ্যাটা বেড়েছে বিগত বছরের থেকে। টেস্টের সংখ্যা বেড়েছে ফলে আক্রান্তদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে। তাঁদের কাউন্সেলিং থেকে চিকিৎসা চলার ফলে সেই ব্যক্তিদের কাছ থেকে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। এটা সমাজের পক্ষে ভাল বেশি টেস্ট হলে কার পজিটিভ আছে সেটা আইডেন্টিফাই করা যাচ্ছে, আমরা ঠিকঠাক চিকিৎসা দিতে পারব। ফলে তাঁদের থেকে সংক্রমণের আশঙ্কাটা কমছে। বিভিন্ন সংগঠন কাজ করছে এইডস সচেতনতা নিয়ে।”
পাশাপাশি তিনি বলেন, ”সমকামীদের মধ্যে পজিটিভের সংখ্যাও বাড়ছে। বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে সমকামীদের গ্রুপ আইডেন্টিফাই করা হচ্ছে এবং তাঁদের সচেতন করা হচ্ছে। অসুরক্ষিত যৌন মিলন শুধুমাত্র সব সময় দায়ী নয়। ব্লাড ট্রান্সপারেশন, ড্রাগ ইভিউস থেকেও এগুলি হতে পারে। যারা ইন্টাভেনাস ড্রাগ নেয় তারা একটাই সিরিঞ্জ শেয়ার করে ফলে এর থেকেও ছড়াতে পারে। এছাড়াও এইচআইভি পজেটিভ যদি কোন মহিলা কনসিভ করেন তাহলে তার শিশুরও এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।”






