এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহিলাদের হাতে উপার্জনের পথও খুলে দেওয়া। উদ্বোধনের দিন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রায় ৪০ জনেরও বেশি মহিলা ও ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। মূলত এলাকার বেকার যুবতী, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা এবং যারা মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বাড়িতে বসে আছেন, তাঁদের জন্যই এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ‘গার্মেন্ট মেকার’ নামে এই কোর্সে সেলাইয়ের প্রাথমিক থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রথমে সেলাই মেশিন চালানো, ববিন ও ববিন কেস ব্যবহার, কাপড়ের মাপ নেওয়া এবং কাটিং শেখানো হবে।
advertisement
এরপর ছোটদের পোশাক, ফ্রক, কুর্তি, চুড়িদার-সহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি এবং ডিজাইন করার কৌশল শেখানো হবে। প্রজেক্ট হেড নবাঙ্কুর পাল বলেন, “শুধু যে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা করতে পারবেন এরকম ব্যাপার না। যারা চাকরি করতে চান বা যারা কিছু শিখতে চান, যারা হয়তো মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বাড়িতে বসে আছেন যারা কিছু কাজ করতে চান তারাও এই কোর্সটা করতে পারেন।”এই কোর্সটি মোটামুটি ৩৯০ ঘণ্টার, যা প্রায় চার মাস ধরে চলবে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সরকারি স্বীকৃত সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
পাশাপাশি বিভিন্ন সেলাই ও গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মীনাক্ষী পাল নামের এক মহিলা বলেন, “কোর্স কমপ্লিট করে আরও ভাল জায়গায় পোঁছাতে পারব সেই আশা নিয়েই এখানে শিখতে এসেছি।” স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষণ শেষে অনেক মহিলাই বাড়িতে বসেই কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। বড় বড় ম্যানুফ্যাকচারারদের কাছ থেকে কাজ এনে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে, যাতে মহিলারা ঘরে বসে সেলাই বা এমব্রয়ডারির কাজ করে আয় করতে পারেন।
আরও পড়ুন: ‘আমি গর্বিত’, UPSC পরীক্ষায় বাংলা থেকে সফল ১১! কৃতিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আবেগঘন পোস্ট মমতার
অন্যদিকে কাটোয়া পৌরসভার সিটি মিশন ম্যানেজার সৌম্য কোলে জানান, “প্রত্যেককে একটা করে সেলাই মেশিনও ভবিষ্যতে পৌরসভা থেকে দেওয়ার কথা আছে। এবং তারা সেলাই শিখবে এবং শিখে সেলফ-ডিপেন্ডেন্ট হবে এবং ভবিষ্যতে এই সেলাই কোর্সটা যদি ঠিকঠাক করে, এই কোর্সের শেষে মেধাবী ফাউন্ডেশন থেকে একটা চাকরি দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হবে।” এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন মহিলারা নতুন দক্ষতা অর্জন করবেন, অন্যদিকে তাঁদের সামনে খুলে যাবে আয়ের নতুন রাস্তা। অনেকের কাছেই এই প্রশিক্ষণ হতে পারে স্বনির্ভর জীবনের প্রথম ধাপ, এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।





