৩০ জানুয়ারি-২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্থানে আয়োজিত ন্যাশনাল মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজিত হয়। এই ন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় বাংলার হয়ে সুযোগ পান পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এই শিক্ষিকা। ন্যাশনাল অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপে জ্যাভলিন থ্রো-তে দ্বিতীয় ও শটপুট ও ডিসকাস থ্রো-তে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন সর্বানীদেবী। একসঙ্গে তিনটি ইভেন্টে পদক জয় করে কেবল নিজের গর্ব নয়, জেলারও গর্ব বাড়ালেন কয়েক গুণ।
advertisement
এদিন বিদ্যালয়ে ছিল অন্যরকম এক উচ্ছ্বাস। সহ শিক্ষিকাদের মুখে ছিল গর্বের হাসি। ছাত্রীদের হাততালিতে ভরে ওঠে স্কুলের মাঠ। সহকর্মীরা ফুল-মিষ্টি দিয়ে সংবর্ধনা জানান সর্বানীকে। স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে কর্তব্য, মা হিসেবে দায়িত্ব ও খেলোয়াড় হিসেবে নিষ্ঠা— তিনটি ভূমিকাকেই সমান দক্ষতায় সামলাচ্ছেন সর্বানী শাসমল আঢ্য।
করোনা মহামারীর সময়ের স্মৃতি কাঁটার মত বিঁধে আছে তাঁর মনে। সেই সময়েই হারিয়েছিলেন স্বামীকে। তবু দুই সন্তানকে নিয়ে ভেঙে না পড়ে দিনরাত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সংসার ও দায়িত্বের ফাঁক গলিয়ে প্রতিদিন প্র্যাকটিস করেছেন। সর্বানীদেবীর কথায়, “বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমরা অনেকেই শরীরচর্চাকে ভুলে যাই। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, শরীরচর্চা শুধু শরীর নয়, মনেরও সুস্থতার পথ। ছোটরা যদি আমাদের দেখে শিখতে পারে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মীনাক্ষী দিন্দা বলেন, “২০১৭ সালে সর্বানী যখন আমাদের স্কুলে যোগ দিল, তখন থেকেই খেলাধূলার পরিবেশ বদলে যায়। ছাত্রীরা এখন নিয়মিত প্র্যাকটিস করে, জেলা-রাজ্য স্তরে অংশ নিচ্ছে। তাঁর এই জাতীয় পুরস্কার আমাদের স্কুলের গর্ব। শিক্ষক হিসেবেও তিনি দায়িত্ববোধে আপোসহীন।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সব মিলিয়ে, সর্বানীদেবী প্রতিদিনই ছাত্রীদের খেলাধূলায় উৎসাহ দেন, শেখান শৃঙ্খলার পাঠ। খেলাধূলা মানে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, আত্মবিশ্বাসের জায়গা। এখান থেকেই জীবনের ডিসিপ্লিন শিখে নেওয়া যায়। জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও খেলাধূলার প্রতি তাঁর অনুরাগ যেন প্রমাণ করে, ইচ্ছে থাকলে একজন লড়াকু মানুষকে বয়স বা বাধা কিছুই থামাতে পারে না।





