গুজব বনাম সতর্কতা। শেষ কয়েক মাস ধরেই পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায় চুরির খবর এবং তার থেকেও বেশি চুরির ‘গুজব’ ছড়িয়েছে দাবানলের মতো। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে জেলা পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান-সহ সাধারণ ব্যবসায়ী এবং গৃহস্থদের সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জেলার সদর শহর সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার, এলাকা এবং ঘিঞ্জি গলিগুলিতে যাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা পালাতে না পারে, তার জন্য ডিজিটাল চোখেই ভরসা রাখছে পুলিশ। এর পাশাপাশি গ্রামেও সাধারণ মানুষ চোরের আতঙ্ক থেকে বাঁচতে ভরসা করছে সিসিটিভির ওপর। ফলে সিসিটিভি দোকানে ভিড় সাধারণ মানুষের।
advertisement
আরও পড়ুন: বারুণী মেলার আগেই ভোলবদল ঠাকুরনগরের, চলছে রেল মহাযজ্ঞ, মিটতে চলেছে দীর্ঘদিনের সমস্যা
তমলুক শহরের ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামের দোকানগুলিতে এখন সিসিটিভি কেনার ধুম পড়েছে। এক সময় সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল কেবল বড় সোনার দোকান বা শপিং মলের বিলাসিতা। কিন্তু এখন সাধারণ মধ্যবিত্ত গৃহস্থও নিজের বাড়ির সদর দরজায় ‘থার্ড আই’ বসাতে কার্পণ্য করছেন না। এক বিক্রেতা নবেন্দু বিকাশ নায়েকের কথায়, “আগে মাসে হয়ত পাঁচ-দশটা সেট বিক্রি হত, এখন দোলের মরশুমের আবিরের মতোই লোকে সিসিটিভি খুঁজছেন। সস্তা থেকে দামি— সব ধরণের ক্যামেরারই বিপুল চাহিদা।” তমলুকের এক বাসিন্দা সূর্য মণ্ডল জানান, “পাড়ায় অচেনা লোক ঘুরলেই মনে ভয় জাগে। বাড়িতে সিসিটিভি থাকলে অন্তত ফোনের অ্যাপে দেখা যায় কে আসছে বা যাচ্ছে! কিছু দুষ্কৃতীমূলক কাজকর্ম বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সিসিটিভি ক্যামেরায় তা ধরা পড়ে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সিসিটিভি ক্যামেরা চাহিদা তুঙ্গে। আগের তুলনায় প্রায় কয়েকগুণ বেড়েছে সিসিটিভি-র বিক্রি। কর্পোরেট থেকে গৃহস্থ, ছোট ছোট মুদির দোকানেও এখন বসছে নজরদারি ক্যামেরা। প্রযুক্তি আর আতঙ্কের এই মিশেলে পূর্ব মেদিনীপুরে এখন সিসিটিভি কেবল যন্ত্র নয়, হয়ে উঠেছে সুরক্ষার অন্যতম ‘কবচ’। পুলিশের মতে, এই ডিজিটাল নজরদারি বাড়লে অপরাধীদের শনাক্ত করা যেমন সহজ হবে, তেমনই কমবে অপরাধের প্রবণতা। নিরাপত্তার নতুন সমীকরণ সিসিটিভি। তাই নিজেদের নিরাপত্তা, নিজেরাই সুনিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার দোকানে ছুটছে সাধারণ মানুষ।





