প্রার্থনার আগে ঘোষণা থেকে শুরু করে ক্লাসের সময়সূচি-সব কিছুই এখন নিয়ন্ত্রিত হবে ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে। বিদ্যালয়ে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শোনা যাবে সকালের শুভেচ্ছা বার্তা। ছোট ছোট ঘোষণার মাধ্যমে পড়ুয়াদের সচেতন করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারকে শিক্ষার অংশ করে তুলতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ এই নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে।
advertisement
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথির নয়াপুট সুধীরকুমার হাইস্কুলে শুরু হয়েছে এই স্বয়ংক্রিয় ঘণ্টা ব্যবস্থা। উপকূল এলাকার একটি সাধারণ গ্রামীণ বিদ্যালয় হয়েও প্রযুক্তির ব্যবহারে নজির গড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পশ্চিম মেদিনীপুরের বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষক সুরজিৎ মাইতির চিন্তাভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছে এই ডিজিটাল সিস্টেম। এক চোখে দেখতে না পেলেও প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহই তাঁকে এই কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। স্বয়ংক্রিয় ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে শোনা যাবে তাঁরই এক ছাত্রীর কণ্ঠে ঘোষণাপত্র। প্রতিটি ক্লাস শেষ হওয়া, প্রার্থনা শুরু কিংবা টিফিনের সময় – সব কিছু জানিয়ে দেবে এই ঘণ্টা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়াই জানান, স্কুলের বড় ক্যাম্পাস হওয়ায় আগে ঘণ্টার শব্দ সব ক্লাসে স্পষ্ট পৌঁছাত না। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পিয়নকে ঘণ্টা বাজাতে হত। কখনও দেরিও হয়ে যেত। নতুন ব্যবস্থায় সেই সমস্যা মিটেছে। এখন নির্দিষ্ট সময় হলেই নিজে থেকেই বেজে উঠছে ঘণ্টা। পড়ুয়া এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা সকলেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হয়েছে। সময় নষ্টও কমছে। ক্লাস পরিচালনায় এসেছে গতি ও স্বচ্ছতা।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
মৎস্যজীবী অধ্যুষিত এই এলাকায় পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই নানা উদ্যোগ নিচ্ছে স্কুলটি। কাঁথি উপকূলের এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১২০০। গ্রামের স্কুল হলেও আধুনিকতার ছোঁয়া স্পষ্ট। ক্লাসঘরের দেওয়ালকে ট্রেনের কামরার আদলে সাজানো হয়েছে। পড়ুয়াদের আকর্ষণ বাড়াতে পরিবেশকেও বদলে ফেলা হয়েছে। এবার যুক্ত হল স্বয়ংক্রিয় ঘণ্টা সিস্টেম। অনেকটা রেল স্টেশনের মতো নির্দিষ্ট সময়ে শোনা যাবে ঘোষণা।
কখন প্রার্থনা, কখন টিফিন শুরু বা শেষ-সব জানিয়ে দেবে প্রযুক্তি। শিক্ষা ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শিক্ষা মহলের অনেকেই। গ্রামের স্কুল হয়েও আধুনিকতার পথে এগিয়ে যাওয়ার এই প্রচেষ্টা ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে।





