জানা যাচ্ছে, বড়র গ্রামের ভেবো নামে একটি পুকুরে আর্থ রিমুভার মেশিন দিয়ে খননকার্য চলছিল। সেই সময় পুকুর থেকে পাওয়া যায় একটি মূর্তি। সেটি দেখেই বহু প্রাচীন বলে মনে হয় এবং সেই মূর্তি বিষ্ণু মূর্তি বলেই মনে করেন গ্রামবাসীরা। এরপর তাঁরা মূর্তিটি সযত্নে তুলে পরিষ্কার করে একটি মন্দিরে রেখে দেন।
আরও পড়ুনঃ পুরুলিয়ার লোকালয়ে জোড়া হরিণ! ঘুরে বেড়াল বিভিন্ন এলাকা, বসন্তের সকালে নজিরবিহীন ঘটনা
advertisement
এদিকে মূর্তি উদ্ধারের খবর মেমারি থানার পুলিশের কাছে পৌঁছতেই তাঁরা বড়র গ্রামে পৌঁছন। স্থানীয় একটি আশ্রমের গাড়ি করে মূর্তিটি থানায় নিয়ে আসা হয়। সেই সঙ্গেই পুলিশের পক্ষ থেকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগে খবর দেওয়া হয়।
ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন, প্রাচীন কষ্টিপাথরের মূর্তিটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এটি স্পষ্ট, এটি ভগবান বিষ্ণুর ধ্রুপদী ‘স্থানক’ মূর্তি। মূর্তির সামগ্রিক অলঙ্করণ এবং পাথর খোদাইয়ের সূক্ষ্ম রীতি বিচার করলে একে অনায়াসেই দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর পাল কিংবা সেন আমলের শিল্পশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
মূর্তির দেহভঙ্গি ‘সমভঙ্গ’ মুদ্রায় বিন্যস্ত, অর্থাৎ ভগবান এখানে সোজা হয়ে দণ্ডায়মান, যা ওই সময়ের ভাস্কর্যে দৈব গাম্ভীর্য প্রকাশের একটি প্রধান মাধ্যম ছিল। পাল-সেন যুগের মূর্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, সূক্ষ্ম গহনার অলঙ্করণ। এখানেও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে খোদাই করা হার, যজ্ঞোপবীত (পৈতা) এবং মস্তকের সুউচ্চ কিরীটমুকুট, যা প্রাচীন বাংলার উৎকৃষ্ট শিল্পবোধের পরিচায়ক। চতুর্ভুজ এই বিষ্ণু মূর্তিটির উপরের ডান হাতে কৌমোদকী গদা এবং উপরের বাম হাতে সুদর্শন চক্র রয়েছে। যদিও বাম হাতের একটি অংশ এই খননের সময় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।






