প্রায় দেড় শতাধিক লোকশিল্পীর উপস্থিতিতে এই কর্মশালার শুভ সূচনা করেন কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রায়বেঁশে শিল্প ও শিল্পীদের রক্ষায় ইতিমধ্যেই একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। লুপ্তপ্রায় এই জনপ্রিয় লোকসংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতেই কর্মশালার আয়োজন করেছে চাইছে সরকার।
advertisement
জেলা তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিক রামশঙ্কর মণ্ডল বলেন, “শিল্পীদের উৎসাহ বাড়াতে এবং শিল্পের প্রসার বৃদ্ধির জন্যই রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই কর্মশালা।” ঐতিহাসিকভাবে ঊনবিংশ শতকে বাংলার গ্রামগঞ্জে রায়বেঁশে নাচ ছিল ভীষণ জনপ্রিয়। বিনোদনের জন্য গ্রাম্য জমিদার ও বিত্তশালীরা নিয়মিত রায়বেঁশে নাচের আসর বসাতেন। এই লোকনৃত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল শিল্পীদের বীরত্ব প্রদর্শনের বিশেষ পুরুষালি ভঙ্গি। জন্মলগ্ন থেকেই মূলত পুরুষরাই এই নৃত্যে অংশ নিতেন।
আরও পড়ুনঃ বাঁকুড়ার জঙ্গলে বীভৎস আগুন! কালো ধোঁয়া গ্রাস করল চারিদিক, ভস্মীভূত একটি ট্রাক্টর ও লরি
তবে সময়ের সঙ্গে সমাজ বদলেছে, বদলেছে রায়বেঁশের চরিত্রও। বর্তমানে সমাজের মহিলারাও এই লোকনৃত্যে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। এক মহিলা শিল্পী অনামিকা দাস বলেন, “সত্যিই এটা খুবই ভাল একটা উদ্যোগ। আমরা এই কর্মশালার মাধ্যমে অনেকটাই উপকৃত হব। বিভিন্ন বিষয়ের আদান প্রদান হবে এই শিল্পের মাধ্যমে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে যেমন সামাজিক বিনোদনের ধরণ বদলেছে, তেমনই তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে রায়বেঁশে নৃত্যের উপরও। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এই লোকশিল্পকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। কর্মশালায় অংশ নেওয়া মহিলা শিল্পীদের বক্তব্য, এই ধরনের প্রশিক্ষণ শিবির শিল্পীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
অন্যদিকে প্রবীণ রায়বেঁশে শিল্পী দুঃখহরণ পণ্ডিত বলেন, “শিল্পী বাঁচলে তবেই লোকশিল্প বাঁচবে।” তাঁর মতে, শুধু কর্মশালাই নয়, শিল্পীদের আর্থিক সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।এদিনের কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন কাটোয়ার মহকুমা শাসক অনির্বাণ বসু, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক রামশঙ্কর মণ্ডল, বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।





